শাহ্ জামাল :
আবারো নৌকায় উঠে বিজয়ের হাসি হাসতে চেয়েছিলেন হেভিওয়েট প্রার্থী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তার দলীয় প্রতীক মশাল ছেলে বেছে নিয়েছিলেন নৌকা। ভেবেছিলেন, নৌকার প্রার্থী হলেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করে ৪র্থ বারের মতো এম পি বানাবেন। কিন্তু সে আশা পূরন হয় নি। ৮০ পয়সার আওয়ামীলীগের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন তিনি। হেরেছেন বিপুল ভোটে। সাথে ডুবিয়েছেন নৌকার মানও। একই অবস্থা দৌলতপুর-১ আসনের প্রভাবশালী এমপি আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ’রও। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়েছেন তারা। অন্যদিকেই কুষ্টিয়ায় একাই নৌকার মান বাঁচিয়েছেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ। নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ৩য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
শান্তিপূর্ন ভোটে সকাল থেকেই ছিল উদ্বেগ উৎকন্ঠা। মোতায়েন ছিল রেকর্ড পরিমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রস্তুত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়া-১ আসন দৌলতপুরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ৮৬ হাজার ৩’শ ৩৯ ভোট পেয়ে শেষ পর্যন্ত বে সরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী (ট্রাক)। নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা হয়েছেন ৩ নাম্বার। তিনি পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫’শ ৬৭ ভোট। ৫১ হাজার ৫’শ ৬৭ ভোট পেয়ে ২য় অবস্থানে আছেন সাবেক এমপি আফাজ উদ্দীনের পুত্র নাজমুল হক পটল (ঈগল)।
আলোচনায় ছিল ভেড়ামারা-মিরপুর নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-২ আসন। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছিলেন হেভিওয়েট প্রার্থী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। অনেকেই মনে করেছিলেন, মাঠের চিত্র যাই হোক না কেন ফলাফল যাবে হেভিওয়েট প্রার্থীর পক্ষেই। মহাজোটের স্বার্থেই তিনি হবে বিজয়ী। এ বিষয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আস্ফালন ছিল দলটির নেতাকর্মীদের। কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জনগনের রায়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ভোটের মাঠের কোন কৌশলই কাজে লাগে নি। ৮০ পয়সার আওয়ামীলীগের কাছে উড়ে গেছেন তিনি ও তার দল। ১৬১ টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রার্থী কামারুল আরেফিন (ট্রাক) ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৭’শ ৯৯ ভোট পেয়ে বে-সরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাসানুল হক ইনু (নৌকা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪’শ ৪৫ ভোট।
কুষ্টিয়া-৩ আসনে নৌকার মান রক্ষার লড়ায়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ (নৌকা)। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮’শ ৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার তনু (ঈগল) পেয়েছেন ৪২ হাজার ১’শ ৮১ ভোট।
কুমারখালী-খোকসা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ আসনে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রউফ চৌধুরী (ট্রাক)। তিনি বর্তমান এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ’র নৌকা প্রতীক কে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪২ ভোট। অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জ পেয়েছেন ৮০ হাজার ১’শ ১ ভোট।