কৈশরেতে বাদাম পেটা, খেলতাম ধানের মাঠে,
কাদা মেখে, করতাম গোসল, গাঁয়ের পুকুর ঘাটে।
বড়রা সব নতুন বলে, খেলতো খেলার মাঠে,
নতুন বল পুরাতন হলে, দিতো মোদের হাতে।
পুরাতন বল কিনতাম মোরা, দিতাম টাকা দুই,
খেলতাম মোরা সেথায় গিয়ে, ধানের লাড়ার ভূঁই।
কেউ বা দিতো দশ পয়সা, কেউ দিতো চার আনা,
যাদের কোন সাধ্য নাই, তাদের দিতে মানা।
মোরা সবাই বন্ধু ছিলাম, সবাই খেলার সাথী,
কখনও যেতাম মাছ ধরতে, বিলে-প্রভাত রাতি।
এমন করে কাটতো সময়, খেলাধুলার মাঝে,
সবাই করতাম হৈ হুল্লোড়, সকাল-দুপুর সাঁঝে।
ডাংগুলি আর গাদন খেলা, নিত্য দিনের সাথী,
রাতে খেলতাম ষোল পাঁইতি, জ্বালিয়ে লম্প বাতি।
সকাল বেলা আম কুড়াতে, সবার সাথে দেখা,
সবাই মিলে স্কুলেতে, করতাম পড়লেখা।
শৈশবে এক নেশা ছিল, মুরগী ভাঁড়ই ধরা,
খড়গোস থাকতো ঝোপের মধ্যে, দিতাম তারে তাড়া।
গর্তে থাকতো শিয়াল গুলো, সেথায় দিতাম ধুঁয়া,
গর্তে থেকে বেরিয়ে শিয়াল, পার হয়তো দুয়া।
নদীর ধারে যেতাম মোরা, কিনতে ইঁলিশ মাছ,
রাস্তার দুই ধারে ছিলো, কাইলী কাঁটার গাছ।
লাটাই বনে কেউ যেত না, কাঁটা ফোঁটার ভয়ে,
উল্লাসেতে উঠতাম মেতে, সকল কাজের জয়ে।