মো: আসলাম উদ্দীন,অধ্যক্ষ (অবঃ) ভেড়ামারা বিজেএম ডিগ্রি কলেজ :
কি লিখব আজ? যখন পত্রিকার পাতা উল্টাই কিংবা টিভির পর্দায় চোখ রাখি তখনই চোখে পড়ে মানুষরূপি কিছু জানোয়ারদের কর্মকান্ড। (১) তরুণীকে গনধর্ষণ, যশোর জেলা যুবলীগের নেতা রফিকুলসহ গ্রেফতার ৪।সূত্রঃ চ্যানেল২৪ ব্রেকিং নিউজ তাং ১০-০৭-২২ (ইদুল আযহার দিন)। (২) এবার শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি, আটক সাবেক শিক্ষার্থী। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন তারিখ ০১-০৭-২২। ঘটনার বিবরণে জানা যায় নারায়নগঞ্জ সদরে অবস্থিত প্রিপারেটরি স্কুলের (বর্তমান নাম কালেক্টরেট প্রিপারেটরি স্কুল) বর্তমান এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তারিক হাসান (২২) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগের হলেও বিব্রতকর মনে করে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যেতে চেয়েছিল। পরে সম্ভব হইনি। (৩) সাভারে শিক্ষক হত্যায় শিক্ষার্থী জিতু গ্রেফতার।
৫দিনের রিমান্ড। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন তারিখ ০১-০৭-২২। ঘটনার বিবরন ঢাকার আশুলিয়ায় হাজি ইউনুচ আলী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলায় ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতুকে গ্রেফতার ও ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। (৪) কলেজ শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ^াসের গলাই জুতার মালা পরানোর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন তারিখ ০১-০৭-২২। ঘটনার বিবরণে জানা যায় নড়াইল সদরে মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে মটর সাইকেল ভাংচুর সহ শিক্ষক, পুলিশ ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়।
আমাদের দেশে অতীত থেকেই চলে আসছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কিছু বিচ্ছিন্য ঘটনা ছাড়া হিন্দু মুসলমান সহ সকল ধর্মের নাগরিকরা পরস্পর পরস্পরের সহযোগীতায় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে এবং পারস্পরিক সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে মধুর সম্পর্ক বিরাজমান। অথচ এমন এক অবস্থার মধ্যে নিজ ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত, শিক্ষক হত্যা ও শিক্ষক নির্যাতন এটা অমার্জনীয় অপরাধ। মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ কতটুকু নিচে নেমে গেলে, কতটুকু ভুলন্ঠিত হলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় বিষয়টি ভাবলেই গা শিউরে উঠে। এছাড়াও সামাজিক অবক্ষয় কত নিচে নামলে একজন ছাত্র তার অধ্যক্ষ স্যারকে ধাক্কা দিয়ে পানি ভর্তি পুকুরে ফেলে দেয়, সামান্য পানির ফোটা গায়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দলবলসহ বাস ডিপোতে গিয়ে ১৭টি বাসে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়, বিশ^বিদ্যালয় বা কলেজের আমার ছাত্রী মেয়েরা সহপাঠী বন্ধুকে নিরাপদ ভাবতে পারে না, ছাত্রী বোনের মুখ থেকে বের হয় ‘এই শুয়ুরের দেশে আমরা বাস করব না’, যে দেশে ৫-৬ বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়। এসব অনৈতিক অপ্রীতিকর কাজ থেকে তাদেরকে বিরত রেখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে আমরা আদিমযুগে ফিরে যাব। সময় খুব কম। এখনই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সঠিক ঔষধ প্রয়োগ জরুরী। নয়তো আমরা যতই বড় বড় ভাষণ দিই না কেন, এ ভাষন কোন কাজে আসবে না। এ ব্যাপারে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের কিছু পরামর্শ রেখে যেতে চাই।
প্রথমতো, আমি মনে করি যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের ১৩টা বছর জেলে কাটিয়েছেন, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের ৩০ লক্ষ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ২ লক্ষ্য মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন, যে গণতন্ত প্রতিষ্ঠার জন্য সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল বাসুনিয়া নূর হোসেন, ডা. মিলনরা জীবন দিয়েছেন। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটবে। সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটলে সকল দলের দেশ প্রেমিক মানুষেরা রাজনীতিতে উৎসাহিত হবে। আর সেখানেই মেধাবী রাজনীতির বিকাশ লাভ করবে। মেধাবী রাজনীতি বিকাশ লাভ করলে , হোন্ডা-গুন্ডা, হেলমেট বাহিনীর প্রতিযোগীতার স্থলে রাজনীতিতে মেধাবীদের প্রতিযোগীতা শুরু হবে।
দ্বিতীয়ত, সকল প্রকার প্রশাসন যন্ত্রকে নিরপেক্ষ রেখে সকল দলের অংশগ্রহনে উৎসব মুখর পরিবেশে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য একটি অবাধ নির্বাচন। এ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই শাসকদলের মধ্যে তৈরি হবে আইন মানার প্রবণতা। নতুবা শাসকদলের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরি হবে না। মনে রাখতে হবে আইন দিয়ে বা চাপিয়ে দিয়ে সবকিছু হয়না। শাসক দল যদি ভেবে থাকেন আমরা সরকারে আছি, সারাজীবন সরকারে থাকব, কোনদিনই ক্ষমতা থেকে সরে আসবনা। তখনই আইন না মানার প্রবণতা তৈরি হবে। আর যদি ভাবে একটি সুন্দর গ্রহনযোগ্য নির্বাচন ঋধপব করেই আমাদের বিজয়ী হতে হবে। তখনই তাদের ভিতর জনগনের কল্যাণের বিষয়টি বেশি বেশি মনে করবে এবং তারা সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে।
তৃতীয়ত, আমি যেটা আলোচনায় আনব সেটা হলো ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য সকল বিশ^বিদ্যালয়সমূহে রাজনৈতিক চর্চা নেই বলেলই চলে। বিশেষ একটি দলের ছেলেরা মাঝে মধ্যে মিছিল করে এর মধ্যেই রাজনীতি সীমাবদ্ধ। ছাত্র রাজনীতিতে প্রতিযোগীতা অথবা প্রতিদ্বন্দীতা না থাকার কারণে এবং বিশ^বিদ্যালয়সহ সকল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না থাকায় ক্লিন ইমেজের মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছে। ফলে ওইসব জায়গায় সিলেটের বদবদরুল, পাবনায় আবু বক্কর সিদ্দিক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শরিফ আহমেদরা দলে আসছে। যার কারণে পত্রিকার দিকে তাকালেই চোখেপড়ে শিবির সন্দেহে বিশ^জিৎ দাসকে হত্যা, স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষক হত্যা, ছাত্রদলের মিছিলে বেপরোয়া হামলা, ছাত্রলীগকে ২কোটি টাকা ঈদ সেলামী, ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের দুই হাজার কোটি টাকা পাচার ইত্যাদি। এগুলো বন্ধের একমাত্র উপায় হলো স্বচ্ছ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গনমুখি রাজনীতির বিকাশ। সেখানে ক্লিন ইমেজের মেধাবী চরিত্রবান রাজনীতির দাবানলে সকল সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে। সামনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নিজে এবং নিজের দলকে জেতাতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রনেতারা নিজের ক্লিনইমেজ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের ও সাধারণ ছাত্রদের সমস্যা সমাধান করে সকল ছাত্রদের মধ্যে নিজের এবং দলের জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য কাজ করবে। এভাবে চড়াই উৎরায় পেরিয়ে তারা জাতীয় রাজনীতির যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে।
চতুর্থত, আমাদের দেশ থেকে খেলাধুলার চর্চা উঠেই গেছে। এক সময় ছিল আমরা স্কুল থেকে এসে বইপুস্তক রেখেই ফুটবল মাঠে দৌড় দিতাম। তখন নিয়মিত ইন্টার স্কুল খেলা হতো যার জন্য ফুটবল খেলতে আমাদের সদর উপজেলায় যেতে হতো। সেই সময় আমরা দেখেছি ফুটবল প্রতিযোগীতা। প্রায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এসব প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করতো ভেড়ামারা পিডিবি টিম, পাকশি পেপার মিল, ঈশ^রদী আলহাজ¦ মিল, কুষ্টিয়া সুগার মিল, ভেড়ামারা পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভেড়ামারা কলেজসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটবল একাদশ। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সে সময় ফুটবল প্লেয়ার নিয়োগ দিত। যাদের কাজই ছিল ফুটবল প্র্যাকটিস এবং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন। এগুলো আজ কোথায়! একটা সময় ছিল যখন পুরো জাতি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী আবাহনী আর মোহামেডানে বিভক্ত। এ’দুই দলের খেলা দেখার টিকিট পাওয়া যেত না। রাজনীতির মাঠে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি যেমন সারাদেশে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে আছে তেমনি খেলার জগতওে পুরো জাতি আবহানী ও মোডামেডান দুটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে। খেলার মাঠগুলো খেলাধুলার অনুপস্থিতে খেলার অনুপোযোগী হয়ে আছে। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের ভাই। খেলাধুলার অনুপস্থিতিতে গড়ে উঠেছে, মোড়ে মোড়ে ক্লাব যার কাজ হলো তাসখেলা, জুয়ার আড্ডা, মাস্তানীর প্রশিক্ষণ এবং মাদকাশক্ত হয়ে নোংরা রজানীতির পথ বেছে নেয়া। দ্বিতীয়ত ক্লাবে, নির্জন কোন জায়গায়, ছুটির দিনে স্কুলের বারান্দায় বসে রাতে দিনে দামি দামি মোবাইল হাতে ঘষে ঘষে ঘন্টার পর ঘন্টা কি যে দেখে বুঝি না। শুধু বুঝি এগুলো তাদেরকে কুৎসীত নোংরা পথে যেতে সাহায্য করে। এগুলো থেকে জাতিকে বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আবার তাদের খেলাধুলার চর্চা, সংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যার জন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং এ ব্যাপারে সরকারকে মনিটরিং করতে হবে।
পঞ্চমত, আমাদের সমাজে সংস্কৃতির চর্চা একেবারে নেই বললেই চলে। যতটুকু আছে সেটা কদাচিৎ। আমারা এক সময় দেখেছি বাঙ্গালি সংস্কৃতির বাউল গান, পালাগান, জারি-সারি গান, ভাটিয়ালী গান, দেহতত্ব গান, পাশাপাশি যাত্রাপালাসহ নাটক, ড্রামা, থিয়েটার ইত্যাদি। গ্রামের মানুষ এগুলো দেখে প্রচুর আনন্দ পেত। এখন আর এগুলো নেই। আমরা যখন কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা সংস্কৃতির পাশাপাশি নাটক, ড্রামা, থিয়েটারে অংশ নিতাম। কিছু কিছু সংগীত যেমন আধুনিক গান, পল্লীগীতি, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, লালনগীতি, দেশত্ববোধক এগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও তা বিশেষ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এসব বিনোদন অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতিতে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেরা ফেইসবুকের মত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে আসক্ত হয়ে তাদের এই নৈতিক চরিত্রের এত অধ:পতন তথা সামাজিক অবক্ষয়। বর্তমানে এ অবস্থা থেকে বের হয়ে বাঙালি কৃষ্টি সভ্যতা, সংস্কৃতি তথা বাঙালি কৃষ্টি কালচারের প্রকাশ পায় এমন কৃষ্টি কালচার প্রতিষ্ঠা করা। যার জন্য শুধু ১লা বৈশাখে পান্তা খেলে হবে না। বাঙালির জাতি সত্ত্বাকে বাঙালি জাতির রন্দ্রে রন্দ্রে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেদেরকে দেশ প্রেমে উদ্বুৃদ্ধ করতে হবে। নবাব সিরাজ উদ্দৌলা যাত্রা পালার মাধ্যমে আমাদের ছেলেরা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সম্পর্কে জানবে। আরো জানবে বেইমান মুনাফিক মীর জাফরের চরিত্র। জানবে বৃটিশ বেনিয়াদের ছত্রছায়ায় জমিদার গোষ্ঠীর কৃষক নির্যাতন। জানবে সমাজের বৃত্তমান ব্যক্তিরা কীভাবে সমাজের গরিব-কৃষক শ্রমিককে শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে। আরও জানবে কীভাবে যুব সমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।সর্বোপরী নতুন প্রজন্ম জানবে ২৩ জুলাই, ১৭৫৭ স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত এবং ২৬ মার্চ, ১৯৭১ স্বাধীনতার সূর্য উদয়। সামাজিক অবক্ষয় ও দুষ্ট চক্র থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের সাংস্কৃতিক জগতকে শক্তিশালী অবস্থায় আনতে হবে এর বিকল্প নাই। আর সরকারকেই এর পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
ষষ্ঠত, এ বিষয়ে আমি অভিভাবকদের সচেতন হতে বলব। আমাদের সন্তানরা কোথায় কার সাথে মিশছে অথবা কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয়ে তার কাছের বন্ধু কারা এবং সে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা, তার চালচলন স্বাভাবিক আছে কিনা। এ ব্যাপারে বাবা-মার একটা নজরদারি থাকতে হবে। তার চালচলন অস্বাভাবিক কিনা এবং সে অপরাধ জগতের সাথে মিশে গেছে কিনা বিষয়টি অভিভাবককেই চিন্তা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এবিষয়গুলো সন্তানের শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই করতে হবে। নয়লে সে যদি অপরাধ জগতে, মাদক জগতে প্রবেশ করে অস্ত্রের প্রশিক্ষন পেয়ে যায় তাহলে আপনার চাইতে জ্ঞানী হয়ে যাবে। আপনার দেওয়া জ্ঞান সে এক কান দিয়ে শুনবে এবং অন্য কানদিয়ে বের করে দিবে। সে যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থেকে যাবে। সে বিনাপরিশ্রমের কাচা টাকা প্রাপ্তির জগত থেকে পড়াশুনার জগতে আর ফিরে আসবে না। “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস,অসৎসংঙ্গে সর্বনাশ” বিষয়ে অভিভাবককে তার সন্তান অপরাধ জগতে প্রবেশের পূর্বেই ভাবতে হবে। নয়লে “সময় গেলে সাধন হবে না”।