রিপন আহমেদ, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি ঃ
আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এক সময়ের অবহেলিত ভেড়ামারা-দৌলতপুরে ডাক বিভাগে। ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস’র মাধ্যমে কম খরচে দ্রুত টাকা প্রদান, সরকারী চিঠি আদান প্রদান কে সর্বোচ্চ গুরত্ব দিয়ে দ্রুত এবং সঠিক সময়ে চিঠি বিলি সহ কাজের গতি এবং মান বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। সঞ্চয় ব্যাংকিং এর লেনদেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা প্রদান করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করছে ডাকবিভাগ। জানা গেছে, পোষ্ট অফিসের সার্ভিসে সাড়া দেশে ভেড়ামারা দৌলতপুর ডাক বিভাগ এখন সেরাদের তালিকায়।
সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া জেলার গুরুত্বপূর্ন ২টি উপজেলা ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর। এটি ভেড়ামারা উপ বিভাগের আওতায়। ২টি উপজেলায় দুটি উপজেলা পোষ্ট অফিস, ৪টি সাব পোষ্ট অফিস এবং ২৯টি শাখা পোষ্ট অফিস রয়েছে। শাখা ডাকঘর সমূহ অবিভাগীয়। সারা দিনে তারা মাত্র ২ থেকে ৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে থাকে। এদের জন্য নেই কোন সরকারী ভবন। শাখা পোষ্ট মাষ্টার নিজ বাড়ি এবং দোকানেই ডাকবিভাগের জরুরী সেবা দিয়ে থাকে। তারা কোন সরকারী কর্মচারী নয় এবং তাদের কাজের নীতিমালাও আলাদা। কিন্তু অনেকেই না জেনে বুঝে এক করে ফেলে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পোস্ট অফিস সমূহে কাজের গতি ও সেবার মান আগের থেকে বহু গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাকবিভাগে আগে টাকা নেওয়ার জন্য যেখানে লম্বা লাইন থাকতো, অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টাকা না পেয়ে ফিরে যেত, বা টাকার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতো, বর্তমানে নেই এমন কোন জটিলতা। ডিজাটাল সেবার মাধ্যমে সঞ্চয় ব্যাংকিং এখন জনগনের দৌড় গোড়ায়।
ভেড়ামারা উপজেলা পোস্টমাস্টার মোঃ আজমত আলী ও দৌলতপুর উপজেলার রেফাইতপুর পোস্টমাস্টার আবু সালেহ জানান, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ডাক বিভাগে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের আওতায় এসে ডাক বিভাগও সেবা পোঁছে দিচ্ছে জনগনের দৌড় গোড়ায়। টাকার জন্য এখন আর লম্বা লাইন দিতে হয় না পোষ্ট অফিসে। অনলাইনের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় দ্রুতই টাকা পেয়ে যাচ্ছে গ্রাহকরা। বিকাশ, এম ক্যাশ সহ অনান্য মোবাইল ব্যাংকিং এ হাজারে ১৮ টাকা চার্জ দিতে হচ্ছে। সেখানে ডাক বিভাগের মানি অর্ডার সার্ভিসের মাধ্যমে মাত্র ৫ টাকা সার্ভিস চার্জ দিয়ে প্রতি হাজার টাকা বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে লেনদেন করার সুবিধা রয়েছে। সরকারী দপ্তরের গুরুত্বপূর্ন চিঠি বিলি করে থাকে ডাক বিভাগ। কোটের চিঠি , তালাক নামা , গার্মেন্টেসের চিঠি, ইন্টারভিউ কার্ড, সাধারন মানি অর্ডার, রেলের পেনশন, তালাকের মানি অর্ডার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই , পরীক্ষার খাতা, ই-কমার্স এর পন্য, বিভিন্ন কোম্পানির ভিপি, ভিপিএল, রেজিস্টি পার্সেল বিভিন্ন দেশি বিদেশি আর্টিকেল সহ প্রতিদিন প্রচুর সরকারী এবং বেসরকারী চিঠি আসে এবং তা শতভাগ বিলি নিশ্চিত করে ডাক বিভাগ।
ডিজিটাল পোস্ট সেবার মাধ্যমে ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার ৩০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যারা উদ্দ্যোক্ততা নামে পরিচিত। চন্ডিপুর , গোলাপনগর , সাতবাড়ীয়া , জগশ্বর, আল্লারদর্গা, মাজদিয়ার, কল্যানপুর, রেফাইতপুর, তারাগুনিয়া, ফিলিপনগর, দৌলতখালী, হোসেনাবাদ, খাসমথুরাপুর, ডাংমড়কা, ধর্মদহ, ইনসাফনগর ও মহিষকুন্ডি অফিসে সরোজমিনে ভিজিট করে দেখা গেছে উদ্যেক্তারা কাজ করছে এবং ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে তাদের নিজেদেরও কর্মসংস্থান হচ্ছে। পোষ্ট অফিস থেকে এসব উদ্দ্যোক্তদের ৩টি ল্যাপটপ ও ২টি প্রিন্টার দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। ধর্মদহ এলাকার উদ্দ্যোক্ততা আনোয়ার হোসেন এবং মেহেরপুর এলাকার উদ্দ্যোক্ততা শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে উদ্দ্যোক্তার কাজ করে তারা এখন স্বাবলম্বী। ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে তাদের জীবন এবং জীবিকা। তারা জানান, প্রতি মাসে প্রায় ১২/১৫ হাজার টাকা ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারে।
ডাক বিভাগের ভেড়ামারা উপ-বিভাগের পরিদর্শক অলোক কুমার বিশ্বাস জানান, আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর ডাক বিভাগে। সরকারের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে জনগনের দৌড় গোড়ায় পৌছে গেছে ডাক বিভাগের সেবা। সীমিত জনবল আর সঠিক কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে ডাক বিভাগের সকল সেবা দ্রুত দেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার জন্য লম্ব লাইন যেমন নেই, তেমনি সরকারী চিঠি বা গ্রাহকের চিঠি এবং গুরুত্বপূর্ন ডকুমেন্ট যথা সময়ে পৌছে দেওয়া হচ্ছে প্রাপকের কাছে। আলোক কুমার বিশ্বাস আরো জানান, ডাক বিভাগ বাংলাদেশে একটা নেটওয়াকিং এর মত কাজ করে। প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি বাড়ীর সাথে ডাক বিভাগের সম্পর্ক রয়েছে। যে কোন মুর্হূতে স্বল্প সময়ে ডাক বিভাগের সেবা আমরা গ্রাহকের নিকট পৌছে দিই এবং দুর্গম ও প্রতন্ত্য অঞ্চলে আটিকেল পৌঁছে দেওয়ার কাজেও ডাকবিভাগ মুখ্য ভুমিকা পালন করে।