এস এম রওনক :
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা রায়টা মহলদার পাড়ায় মোঃ শহিদুল মলদারের পান বরজে আজ সকাল ১১ টার সময় বাঘ সন্দেহে মেছোবাঘ কে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক দিনের মতো আজও পান বরজে সকালে কাজ করতে গেলে বরজের ভেতরে বাঘ সদৃশ্য প্রাণীটিকে দেখতে পাওয়া যায়, আতঙ্কিত হয়ে তার সম্মুখে যেতেই আক্রমাত্মকভাবে তেড়ে আসে তার আক্রমণে প্রাণ বাঁচাতে অনেক ডাকাডাকি চেঁচামেচি করার পরে আশপাশের পান বরজে কর্মরত শ্রমিকরা ও লোকজন এসে মেছো বাঘটিকে পিটিয়ে আহত করলে পরে ঘটনাস্থলাই মারা যায়, এলকাবাসীর ধারনা মেছোবাঘটি নদী দিয়ে সাঁতরে এখানে এসেছে আর এটা আমরা বাঘ মনে করে আত্মরক্ষায় মারা হয়েছে যদি জানতাম এটা বাঘের মতো আক্রমণাত্মক নয় এবং এটা মেছো বিড়াল প্রকৃতির তাহলে কখনোই মারতাম না,
তথ্যসূত্র অনুযায়ী মেছোবাঘ (বৈজ্ঞানিক নাম: Prionailurus viverrinus) মাঝারি আকারের বিড়ালগোত্রীয় দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণী। জনবসতি স্থাপন, কৃষিজমিতে রূপান্তর ও অন্যান্য কারণে বাঘরোলের আবাসস্থল জলাভূমিগুলো দিন দিন সংকুচিত ও হ্রাস পাওয়াই এর মূল কারণ। তাই আইইউসিএন ২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করে।
মেছোবাঘের বিস্তৃতি ২০১৬ এর তথ্যানুযায়ী
বাংলাদেশের ১৯৭৪[২] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]
মেছোবাঘ সাধারণত জলাভূমি, বরাবর নদী, প্রবাহ, অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, জলাভূমি, এবং ম্যানগ্রোভতে বাস করে। এদের উপস্থিতি সেখানকার জলাভূমির অবস্থার ভালো-মন্দ নির্ধারণে সাহায্য করে। এরা সাঁতারে পারদর্শী হওয়ায় এধরনের পরিবেশে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে। এদের গায়ে ছোপ ছোপ চিহ্ন থাকার জন্য চিতাবাঘ বলেও ভুল করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এটিকে সেই রাজ্যের ‘রাজ্য প্রাণী’ তকমা দেওয়া হয়েছে এবং এই রাজ্য বর্তমানে বাঘরোল সংরক্ষণে ও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে আশার আলো দেখিয়েছে।