শাহ্ জামাল :
মাদক বিক্রির সময় হাতে নাতে আটক হওয়ার পর ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পড়ে জাসদ নেতার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এখন শান্ত। অবরুদ্ধ ৩ পুলিশ সদস্যকে সাড়ে ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে বিজিবি’র সদস্যরা। গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে তাদেরকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক ২টি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, নিহতের নাম রফিকুল ইসলাম দুদু (৪৫)। সে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদ’র সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক’র ছোট ভাই এবং ওই এলাকার আজিজ মন্ডলের পুত্র। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে চাঁদগ্রাম ৪ নং ব্রীজের সন্নিকটে একটি চায়ের দোকানদারী করার পাশাপাশি গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভেড়ামারা থানা পুলিশের এস আই সালাউদ্দীন ৬ সদস্যের একটি সঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের জন্য অভিযান চালায়। মাদক ট্যাপেন্ডল সহ তাকে হাতে নাতে আটকও করে পুলিশ। এসময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে ব্রীজ থেকে লাফ দেয়ী। পুলিশ সেখানেও ধাওয়া করে তাকে আটক করে। এসময় ধস্তাধস্তার এক পর্য্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জাসদ নেতাকর্মীরা পুলিশের কারনেই তার মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে পুলিশ কে ধাওয়া দেয়। এর মধ্যে ৩ জনকে ধরে ফেলে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এরপর আটকিয়ে রাখা হয় জাসদ অফিসে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশ সদস্য এখলাছ উদ্দীনের ব্যবহৃত এফ জেড ফিজার মোটরসাইকেলটি। গুরুত্বর আহত পুলিশ সদস্যরা হলো ঃ এসআই সালাউদ্দীন (৩২), কনস্টেবল এখলাছ উদ্দীন (৩০) কনস্টেবল মিজানুর রহমান (২৮)।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চায়ের দোকানদারীর আড়ালে রফিকুল ইসলাম দুদু দীর্ঘদিন মাদক ট্যাপেন্ডল’র ব্যবসা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সংবাদ নিশ্চিত হয়ে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। আটকও করা হয়। তার পর সে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ব্রীজ থেকে লাফ দেয়। পুলিশও তাকে ধাওয়া দিয়ে আবারো আটক করে। এবং ধস্তাধস্তির এক পর্য্যায়ে সে অসুস্থ অনুভব করলে, তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়। এ সময় সে মারা যায়। এরপর বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়। অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, ৩ পুলিশ সদস্যকে গুরুত্বর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁদ্রগাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জানবার হোসেন জানিয়েছেন, নিহত রফিকুল ইসলাম দুদু চায়ের দোকানদার’র পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে এলাকায় পরিচিত। আওয়ামীলীগ ও জাসদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এলাকার মানুষ মুখ না খুললেও, দুদু একজন মাদক ব্যবসায়ী তা এখন সবার মুখে মুখে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই সে লাফিয়ে পড়ে এবং অসুস্থ হয়ে সে মারা যায়। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অগ্নিগর্ভ, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল একটি মহল, কিন্তু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম আলমের সরাসরি হস্তক্ষেপে সকল অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।
নিহত রফিকুল ইসলাম দুদু’র বড় ভাই ও চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাবী করে জানিয়েছেন, নিহত দুদু একজন চায়ের দোকানদার। তার বিরুদ্ধে কোন মাদক মামলা নেই। সে মাদকের সাথে জড়িতও না। পুলিশ অন্যায় ভাবে তাকে আটক করতে এসে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে ৬ পুলিশকে আসামী করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।