এস এম রওনক, স্টাফ রিপোর্টার, ভেড়ামারা
ছোট মাছ ধরা ডুঙ্গা নৌকায় কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে পদ্মা নদী পারাপারের সময় আকস্মিক দূর্ঘটনায় নৌকা ডুবিতে দুই জন নিহত ও অপর দুই জন আহত অবস্থায় উদ্ধার ।
নিহতরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আঃ গফুরের পুত্র মৃত রশিদ (৫৭) ও একই গ্রামের মৃত শরাফত হোসেনের পুত্র মৃত মামুন (২৮), নদী থেকে উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাণে বেঁচে ফেরা মৃত সিরাজ প্রামাণিকের পুত্র মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের মতো মামুনের জমিতে আমরা আখ লাগানোর জন্য রওনা দেই, জমি নদীর অপর প্রান্তে হওয়ায় ছোট ডুঙ্গা (ছোট নৌকা জাতীয়) দিয়ে পার হই, আজকেও অন্যদিনের মতো চারজন পার হচ্ছিলাম কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ ডুঙ্গা সামান্য কাত হয়ে পানি উঠতে থাকে তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডুবে যায়, যে যার মতো প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করতে থাকি, হঠাৎ আমি পায়ের নীচে মাটির স্পর্শ অনুভব করি এবং কোন রকম কিনারায় উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি, আমার চোখের সামনে এমন দূর্ঘটনা সহ্য করতে পারছি না,
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, আমরাও নদী পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, ওদের পরেই আমরা যাবো কিন্তু ওরা কিছুদূর যেতেই ছোট নৌকাটা হঠাৎ দুলতে দুলতে কাত হয়ে ডুবে যায়, আমি সহ কয়েকজন দ্রুত ঝাঁপ দিয়ে তাদের মধ্যে মামুন ও রশিদ চাচাকে উদ্ধার করি, রশিদ চাচা সহ দুজনের অবস্থায় খুব খারাপ ছিল, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম, এই ধাক্কা কোন ভাবেই মানতে পারছি না,
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শরিফুল ইসলাম রনি বলেন, দূর্ঘটনা শোনার সাথে সাথে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি জানতে চেষ্টা করি এবং যা জানতে পারি তা সত্যি খুব মর্মান্তিক ঘটনা, একই সাথে একই গ্রামের দুই জনের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক বিরাজ করছে, নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় স্বাভাবিক মৃত্যু ঘোষণা করায় তাদের স্বাভাবিক নিয়মেই দাফনের ব্যবস্থা করছি,
তবে ভবিষ্যতে এমন ছোট নৌকায় নদী পারাপারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।