এম এ মাজিদ,তাড়াশ :
মাটিয়ামালীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুঞ্জুরুল হক। তিনি শিক্ষাকতার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। আবার একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল করিম। তারা দুজনই ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপরে তাড়াশের খালকুলায় এলাকায় সংগঠিত হামলা-মামলার আসামী। আর দুজনই প্রায় এক মাসের অধিক সময় ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় এখন জেল হাজতে আছেন। তারপরও তারা তাদের কর্মস্থল মাটিয়া মালী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বেতন ভাতার সীটে গায়েবি ভাবে স্বাক্ষর করছেন। যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এস এম রুহুল আমিন। তিনি ও নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। এ কারণে দলীয় দুই নেতাকে বাচাতে চাকরি বিধি অমান্য করে জেলে থাকলেও ওই দুজনকে বেতন ভাতার সীটে নিজেই জাল গায়েবি স্বাক্ষর করে সহযোগিতা করছেন। অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীর হাজিরা খাতায় জেলে যাওয়ার পর থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুঞ্জুরুল হক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. রবিউল করিমের উপস্থিতির ঘরে কোনই স্বাক্ষর নেই। কিন্তু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না থাকলেও গায়েবি ভাবে গত নভেম্বর মাসের বেতন ভাতার সীটে স্বাক্ষর দেখাচ্ছেন।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক এম এম রুহুল আমির ২০১৪ সালে নিয়ম না মেনে নিজের পছন্দ মতো বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা নিয়ে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম গোলাম রেজা সাথে বিরোধ জড়ান। এক পর্যয়ে ওই কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে আসলে তিনি সহ দলীয় লোকজন নিয়ে শিক্ষা কর্মকতা এসএম গোলাম রেজাকে বিদ্যালয়ের ভিতরেই মারধর করে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। যা নিয়ে তাড়াশ থানায় একটি মামলা হয়। সে মামলায় থানা পুলিশ তদন্তের পর আসামী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সহ সকল আসামীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অবশ্য, মাটিয়া মালীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এম রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। বিদ্যালয়ে আসেন। আসলে স্বাক্ষাতে কথা বলবো।
এ দিকে জেলে থেকেও বেতন ভাতার সীটে স্বাক্ষর করার অনৈতিক বিষয়টি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. মাহমুদ হাসান প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুইচিং মারমা’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুইচিং মারমা জানান, প্রধান শিক্ষককে আমার দপ্তরে ডেকেছি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।