১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | সকাল ১০:৪১
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আমলায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আমলায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

মোঃ মনিরুল ইসলাম :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া, মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারে আমলা ও সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন আমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রওশন আলী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যেসকল ছাত্র-জনতা মৃত্যু বরণ করেছে তারা আমাদের বীর! তাদের এই আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ নতুন ভাবে স্বাধীন হলো। দেশের মানুষের বাক্ স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। নিহতদের জন্য আমাদের দোয়া,মহান আল্লাহ যেন সকলকে জান্নাতবাসী করেন। এছাড়া যারা আহত রয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি আমরা।

প্রধান অতিথি বলেন, নিজ মাতৃভূমিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে এবং সমৃদ্ধশীল আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে শাণিত করে শ্রম ও চেষ্টাকে ধারাবাহিক করতে চিন্তা ও গবেষনাকে কাজে লাগাতে হবে। দীর্ঘ ১৬ বছর একটি সৈরাচার সরকারের অধীনে অনেকেই মুক্ত মনে মুখ খুলে কথা বলতে পারেনি। আজকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন ভাবে দেশ স্বাধীন হয়ে উন্মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তার জন্য ছাত্র আন্দোলনে যারা দেশকে স্বাধীনের অবদান রেখেছে দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা যে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে জীবন দিয়েছেন, তা আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই সবাই দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করে আমাদের এলাকাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।

সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালক মো. রওশন আলী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের সফলতা যদি কেউ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ রুখে দেবে। আর জনগণের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সবার আগে থাকবে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বিপ্লব, এই পরিবর্তন, এই আন্দোলনের সফলতাকে পাহারাদারি করতে হবে। এর কোনো ধরনের অপমান জাতি সহ্য করবে না।

আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম শাহিন, আফজাল হোসেন, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, জেলা যুব দলের সহ সভাপতি আজাদুর রহমান আজাদ, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মুকুল, সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ সাংগাঠনিক আশরাফুল হক আশা, উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুল হক সৈনিক, সাবেক ছাত্র নেতা রাশেদ মাহবুব নাসির, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক রাশিদুর রহমান রঞ্জু, আমলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মারফত আলী, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল হক মোমিন, সদরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহিন বিশ্বাস, মিরপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া, আমলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম সহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।।

এসময় বক্তারা বলনে, স্বৈরাচারী সরকার শেষ দিনগুলোতে দিশেহারা হয়ে আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে। কোনো মা তার সন্তান হারিয়েছেন, কোনো বাবা তার সন্তান হারিয়েছেন, কোনো স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছেন, ছোট্ট সন্তানেরা তাদের বাবাকে হারিয়েছে। ভাই হারিয়েছে তার বোনকে, বোন হারিয়েছে তার ভাইকে। এই দেশ ছোপ ছোপ তাজা রক্তে ভরে উঠেছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন বলতে পারে আমাদেরও আবু সাঈদ আছে, আমাদেরও রুদ্র আছে, মুগ্ধ আছে। আমাদের এরকম হাজারো বীর আছে। আমরা সবাই বীরদের অনুসারী। আগে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাড়াকাড়ি মারামারি হতো, মানুষ যেদিকে চলাফেরা করতে গেলে আতঙ্কে থাকতো, এখন সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণও দাঁড়িয়েছে। আমরা সাবাই মিলে এই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।

উক্ত অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্ররা উপস্হিত ছিল। আলোচনা সমাপ্তির পর বৈষম্যবিরুধী ছাত্র আন্দোলনে সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024