১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | মঙ্গলবার | বর্ষাকাল | সন্ধ্যা ৭:১১
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ!
বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আপনাদের জন্য আমি একটি ছোট্ট উপহার নিয়ে এসেছি। এটি হলো টানেল। এখন দইজ্জার তল দিয়ে গাড়ি চলে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় আর টানেল নেই। রোববার টানেল জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এখন ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রামের ভেতরে ঢুকে যানজটে পড়তে হবে না। ঘটঘট করে বাড়ি চলে যাবেন।’ সভায় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে ওয়াদা নেন। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে আনোয়ারার কেইপিজেড মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানেলটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। যা আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যারা জড়িত ছিলেন, দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আরও ১১টি প্রকল্প আপনাদের জন্য উপহার হিসেবে উদ্বোধন করে দিলাম। আজকের এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে গত নির্বাচনে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন বলে। নৌকা যখনই সরকারে এসেছে, দেশ ও মানুষের উন্নয়ন করেছে। তিনি বলেন, জনগণের কাছে ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। আমাদেরকে ওই সমস্ত ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। খালেদা জিয়া ভোট চুরি করেছিল। এ কারণে তাদের একবার ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। আমরা বাবা-মা সব হারিয়েছি। দুই বোন বাইরে থাকায় বেঁচে গেছি। বাংলাদেশে যখন এসেছি তখন খুনিদের দল ক্ষমতায় ছিল। এখানে আসার পর অনেক বাধা পেয়েছি। আমাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার একটাই কাজ দেশের মানুষের কল্যাণ করা। আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শুধু আপনাদের দোয়া চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আজকে কর্ণফুলী টানেল পেয়েছেন, স্বাধীনতা পেয়েছেন, উন্নয়ন পেয়েছেন। আজকে আমার কাছে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা আবার আমাকে জেতাবেন কিনা?
শেখ হাসিনা বলেন, রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করে আপনারা উপস্থিত রয়েছেন। এ জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি সব হারিয়েছি ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট। বাবা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার পরিবার-পরিজনের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের মাগফেরাত কামনা করি। আমি ও আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। তাই বেঁচে গিয়েছিলাম। ছয় বছর আমাদেরকে দেশে আসতে দেয়া হয়নি। পরে জোর করে চলে এসেছি। আসার পর থেকে বাংলাদেশে মানুষের জন্য কাজ করছি। কীভাবে দেশের মানুষকে ভালো রাখা যায় সেটা নিয়েই চিন্তা করি।
সমাবেশের আগে বেলা ১১টার পর হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়ক পথে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম তীরে পৌঁছান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু টানেলের একটি ফলক উন্মোচন করেন। সেখান থেকে টোল দিয়ে টানেল পার হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীরা। আর সমাবেশ শেষ করেই দুপুর দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘টানেল দেখে তাদের জ্বালা। ভারতে হয়নি, নেপালে হয়নি, শ্রীলঙ্কায় হয়নি, শুধুমাত্র বাংলাদেশে হয়েছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হয়েছে! কে করেছে? শেখ হাসিনা করেছে! যতদিন টানেল থাকবে, ততদিন শেখ হাসিনার নাম থাকবে।’
ঢাকায় বিএনপি’র সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লাঠিসোটা, রড ও চাল-ডালের বস্তা নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। এরা ফাউল করছে, এদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। এদের সঙ্গে কোনো আপস নয়, এরা দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। এরা অর্থ পাচারকারী, এদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। ভোট চোরের বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। সামনে কোয়ার্টার ফাইনাল, জানুয়ারিতে ফাইনাল। আমরা সবাই প্রস্তুত, সবাই ঐক্যবদ্ধ।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ বক্তব্য রাখেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024