শাহ্ জামাল :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই কদর বাড়ছে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের। সক্রিয় কর্মীদের মতো নিস্ক্রিয় কর্মীদেরও কদর বেড়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর যে সকল কর্মীরা ছিলেন অবহেলিত, উপেক্ষিত। তারাও এখন পাচ্ছেন সম্মান, মর্যাদা। ভোট কে সামনে রেখে তারাও পাচ্ছেন ভোটের হাত খরচ। নৌকা-এন্ট্রি নৌকার লড়াইয়ে হয়েছেন চাঙ্গা। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী অথবা স্থানীয় আওয়ামীলীগ মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থী, কেউ না কেউ, এই সব অবহেলিত, উপেক্ষিত কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের ভোটের মাঠে নামিয়েছেন। নির্দেশনা দিচেছন, মাঠে কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় থাকতে। মোড়ে মোড়ে লোকাল অফিস স্থাপন করে প্রচারনা চালিয়ে প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছেন সেই সব অবেহেলিত নেতা-কর্র্মীরা। কুষ্টিয়ার ৪টি নির্বাচনী আসন ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক, আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা জাহিদ হোসেন জাফর। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কোনঠাসা তিনি। বলা যায় নিস্ক্রিয়। নির্বাচনে সেলিম আলতাফ জর্জের নৌকা প্রতীকের প্রতিপক্ষ সাবেক সাংসদ আব্দুর রউফ। তার প্রতীক ট্রাক। জর্জের নৌকাকে হারিয়ে শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করতে আব্দুর রউফ নিস্ক্রিয় জাহিদ হোসনে জাফর কে মাঠে নামিয়েছেন। ট্রাকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখন তিনি। একই অবস্থা কুমারখালি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, যদুবয়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান সহ কুমারখালী খোকসার বহু নেতাকর্মীর। তাদের এখন ফিরেছে সুদিন। স্থানীয় এক ভোটার বলেছেন, এক সময় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুর রউফ। সে সময় তিনি প্রচুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার সে সময়ের জনপ্রিয়তার কারনেই তিনি এ নির্বাচনে এগিয়ে আছেন।
কুষ্টিয়-৩ আসনেও একই অবস্থা। উপেক্ষিত নেতা-কর্মীরা এখন চাঙ্গা। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী, নৌকার কান্ডারী বর্তমান এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফের নৌকার সাথে লড়াই হচ্ছে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলীর পুত্র পারভেজ আনোয়ার তনু’র সাথে। তনু কুষ্টিয়া যুবলীগের জনপ্রিয় নেতা। আওয়ামীলীগের ত্যাগী, উপেক্ষিত ও অবহেলিত নেতারা সক্রিয় হয়ে তনু’র ঈগল মার্কার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
কুষ্টিয়া-২ আসনের নৌকার মাঝি মনোনীত হয়েছেন জাসদ’র সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি মহাজোটের রুপকার। গত ৩ বার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন আরাম আয়েশে। এ নির্বাচনে রয়েছেন চরম অস্বস্তিতে। তার প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ নেতা কামারুল আরেফিন। ভেড়ামারা-মিরপুরের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা একাট্রা হয়ে কামারুলের ট্রাক প্রতীকের পক্ষে লড়াই করছেন। অন্যদিকে, আওয়ামীলীগের নেতা হলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ছিলেন নিস্তেজ, নিস্প্রোভ, উপেক্ষিত এমন নেতা কর্মীদের সক্রিয় করে নৌকার পক্ষে ইতোমধ্যে মাঠে নামিয়েছেন ইনু। এসব নেতারা বিভিন্ন সমাবেশে, পথসভায় বক্তব্য রাখছেন নৌকার পক্ষে। আলহাজ্ব আমিরুল ইসলাম ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের এক সময়ের দাপুটে সাধারন সম্পাদক। এখন তিনি সাবেক। ১৫ বছর ছিলেন নিস্ক্রিয়, উপেক্ষিত। এই নির্বাচনে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে তিনি এখন সক্রিয়। কামারুল আরেফিনের ট্রাকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি সহ তার অনুসারীরা নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। শুধু আমিরুল ইসলামই নন এ রকম বহু আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী স্থানীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশ অমান্য করে এখন নৌকার পক্ষে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে নৌকার মাঝি আ স ম সরোয়ার জাহান বাদশা। নৌকার বিপক্ষে সরব সাবেক সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী। তিনিও লড়ছেন ট্রাক প্রতীক নিয়ে। দ্বিধা বিভক্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার বিরুদ্ধে একাট্রা হয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। অন্যদিকে ঈগল প্রতীক নিয়ে বিরামহীন গতিতে লড়াইয়ে নেমেছেন সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দীনের পুত্র নাজমুল হুদা পটল। নির্বাচন কে সামনে রেখে দৌলতপুরের এখন সক্রিয় এক সময়ের বহু নিস্ক্রিয় কর্মী।