ষ্টাফ রির্পোটার, ২৪ অগাস্ট’২২:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার দামুকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জয়ত্রী রানী সিংহ রায়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভেড়ামারা। এসময় ধমীয় অনুভুতিতে অাঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে এবং বিতর্কিত ওই শিক্ষিকার শাস্তির দাবীতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকাকে সালাম দিলে, তিনি সালামের উত্তর না দিয়ে বলেন, আমাকে সালাম না দিয়ে কুকুরকে সালাম দিস এবং ব্যাঙ্গ করে বলেন, মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নামে ব্যায়াম করে।
এ বিষয়টি ইসলাম সরাসরি অবমাননা দাবী করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অত্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় ঘিরে ফেলে।
পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হন এবং উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেন। এসময় অাটক করা হয়, বিতর্কিত ও অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকাকে।
এ দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন নিতে মোকারিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আলোচনায় বসেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভিতরে যাহারা উত্তেজিত হয়েছে তারাও আমাদের এবং যারা বিদ্যালয়ের বাহিরে উত্তেজিত হয়েছে তাহারাও আমাদের ইউনিয়নের বাসিন্দা অতএব কাউকে ইন্ডিকেট করে কথা বলে ঘোলা না করে যেন সমাধানে আনা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করেন। ভেড়ামারা সার্কেলের পুলিশ অফিসার ইয়াসির আরাফাত ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপরাধ প্রমানিত হলে তাকে অাইনের অাওতায় এনে কঠোর শাস্তির ঘোষনা দেন এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুতর কথাও বলেন।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। জয়ত্রী রানী সিংহ রায় কে সালাম দিলে, উনি সালামের উত্তর না দিয়ে বলেন আমাকে সালাম না দিয়ে কুকুরকে সালাম দিস এবং তিনি মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়েও কুটুক্তি করেন। বলেন, মুসলমানরা নামাজের নামে ব্যায়াম করে।
এই বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পান নি। উল্ট্রো তাদের টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যায় এবং পুলিশ প্রশাসন ও মিডিয়ার কাছে অভিযোগ পেশ করে যে আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম শাহিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ আসেনি, অথচ শিক্ষার্থীরা বলেন আমরা স্যারকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি কিন্তু স্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অস্বীকার করছেন।
বর্তমান এই বিষয় নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করেছেন।