শাহ্ জামাল :
আবুল হোসেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ন আহবায়ক। ত্যাগী, নিরহংকারী, বিপ্লবী ও একজন পরিচ্ছন্ন গুনি রাজনৈতিক হিসাবে এলাকায় ব্যাপক ভাবে সমাদৃত। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দুঃশাসনে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিষ্পেষিত হয়ে এখন তিনি রিক্ত। হামলা, মামলায় কোনঠাসা এই বিএনপি নেতাকে আগামী দিনে নেতৃত্বে দেখতে চান ভেড়ামারার বিএনপির নেতাকর্মীরা।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক, পরীক্ষিত রাজনৈতিক এ্যাড তৌহিদুল ইসলাম আলমের হাত ধরেই ১৯৮২ সালে ভেড়ামারা কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে হাতে খড়ি আবুল হোসেন’র। সে সময় কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের পদ পান তিনি। যোগ্যতা আর দক্ষ নেতৃত্বের গুনে দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রদল, যুবদল সহ বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ন পদে। দ্বি-বার্ষিক/ ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে তিনিই বারবার সভাপতি/ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ৪২ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সূদৃঢ় অবস্থান তৈরী করছেন।
ভেড়ামারা কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকাবস্থাতেই ১৯৮৩ সালে দায়িত্ব পান জুনিয়াদহ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির। ১৯৮৯ সালে যুবদলের দায়িত্ব নিয়ে সভাপতি হিসাবে সংগঠন কে এগিয়ে নেন ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। সে সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কুষ্টিয়া-২ ভেড়ামারা-মিরপুর আসনের সাবেক সাংসদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের হাত কে শক্তিশালী করতে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন কে বিএনপির একটি শক্তিশালী দূর্গ হিসাবে গড়ে তোলেন। এসময় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় জুনিয়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসাবে। একই সাথে নির্বাচিত হন ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক।
২০০১ সালে বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তখনও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার না করে জনগনের জন্য কল্যান এবং উন্নয়ন’র ধারায় রাজনীতিকে এগিয়ে নেন। জনগনের বন্ধু হিসাবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সহিংসতা আর লুটপাটের রাজীনতি পরিহার করে শান্তি এবং উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্টা করেন।
স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই বিরোধী দলের উপর শুরু করে দমন নিপীড়ন-অত্যাচার। বাদ যাননি আবুল হোসেনও। হামলা, মামলা আর হুমকিতে তটস্থ করে রাখতেন সব সময়। তৎকালীন সময়েও তিনি দলকে সংঘবদ্ধ রেখে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা পরিচালনা করেছেন। আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সব সময় পাশে ছিলেন। আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে অনেক বেশী স্বৈরাচারী হয়ে উঠে। বিরোধী দল ও মতের মানুষ কে নিস্তবদ্ধ করে দেওয়ায় ছিল আওয়ামীলীগের কাজ। পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে ঘর ছাড়া করেছিল আবুল হোসেন কে। এমন অবস্থার মধ্যেই ২০১৬ সালে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষনা করে বিএনপি। দলীয় আনুগত্যের কারনে তিনি প্রার্থী হয়ে মানুষের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে ৬ হাজার ২’শ ৫৯ ভোট পান। আওয়ামীলীগের ক্ষমতাশালী প্রার্থীর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন তিনি। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল সে সময় কুষ্টিয়া জেলার বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট।
৫ অগাষ্টের পর বিএনপির রাজনীতির মাঠ স্বাভাবিক হলে প্রতিশোধ স্পৃহা নিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতাই মাঠে সরব হয়ে উঠেন। সে সময়ও আবুল হোসেন ব্যাস্ত সময় পার করছেন বিএনপিকে পূর্নগঠন এবং শক্তিশালী করতে।
মোকারিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী নেতা আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, আবুল হোসেন তারেক জিয়ার আর্দশের একজন সৈনিক। জুনিয়াদহ বিএনপির কান্ডারী হলেও ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য তিনি আর্দশ। দলের চরম সংকটে এমন নেতৃত্বই প্রয়োজন বিএনপির। আবুল হোসেন ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসলে উপকৃত হবে উপজেলা বিএনপি।