স্বাধীনতা ডেক্স :
স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও ভারতের সীমান্তবর্তী জেলায় কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। সাত দিনের কঠোর বিধি নিষেধ বা লকডাউন সপ্তম দিনের চলছে।আজ রাত ১২টায় লকডাউন মেয়াদ শেষ হবে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত। তবে লকডাউন বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
রবিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭৭ নমুনা পরীক্ষা করে ১৯৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলায় এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৪.৬৩ শতাংশ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৫ জন।
এ সময়ে করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বমোট মারা গেছেন ১৮৫ জন। গত ১০ দিনে ১২৭৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে আর গত ৮ দিনে এখানে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই সময়ে ৪৬ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ২৮০ জন।
বর্তমানে কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭২০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬৪ জন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ৫৫৬ জন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি না হলেও শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। এখনো কিছু কাজ বাঁকি আছে। এদিকে থেকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল নামে যাত্রা শুরু করেছে ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘হাসপাতালে বাড়ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ। চাপ সামলাতে সবাইকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের প্রায় প্রত্যেককেই অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে অক্সিজেন সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন থেকে হাসপাতালে করোনা রোগী ছাড়া আর অন্য কোনো রোগী ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করে জরুরী বিভাগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্য রোগীদের পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিস ও আদ্বদীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।’
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এখানে কঠোর লকডাউন চলছে। এরপরও কেন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। করোনার সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় ২০ জুন মধ্যরাত থেকে ২৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সাত দিনের কঠোর বিধি নিষেধে বা লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্রশাসন।লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট বসিয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করছেন।