১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | সন্ধ্যা ৬:৪৩
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যাকাত আদায় করুন………শায়খ হাসান মুরাদ

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যাকাত আদায় করুন………শায়খ হাসান মুরাদ

যাকাত অর্থ : বৃদ্ধি-প্রবৃদ্ধি, পবিত্রতা, বরকত, প্রশংসা ইত্যাদি। (লিসানুল আরব-৬/৬৯)
পরিভাষায় যাকাত বলা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে নিজ মালিকানায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদে নির্দিষ্ট পন্থায়, নির্দিষ্ট আর্থিক হক আদায় করাকে। (সম্পদে নেসাব, বর্ধনশীল এবং এক বছর অতিবাহিত হতে হবে)
তাৎপর্য : যাকাত ফরয হয়েছে ২য় হিজরিতে শওয়াল মাসে। যাকাত শব্দটি কুরআনুল কারিমে প্রায় ৩৩ স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। একই আয়াতে সালাতের সাথে ব্যবহার হয়েছে ২৭ স্থানে। কেউ কেউ বলেছেন ৮২ স্থানে। তবে প্রথম মতটিই সঠিক। যাকাত শব্দটি মাক্কি সুরাতে ৮ স্থানে এসেছে। সেই আলোকে কতক আলিম বলেছেন যাকাত মক্কাতেই ফরয হয়েছে। অবশ্য অধিকাংশ ফকিহদের মতে যাকাত মদিনাতেই ফরয হয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসির রহ. বিরোধের সমাধান এভাবে দিয়েছেন, যাকাতের মৌলিক বিধান মক্কাতে নাজিল হয়েছে। আর বিস্তারিত বর্ণনা তথা নেসাব, রাষ্ট্র কর্তৃক যাকাত আদায়ের প্রক্রিয়া ইত্যাদি মদিনাতে বর্ণিত হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৩/২৩৮,সুরা মুমিনুন-৪)
যাকাতের ফজিলত : পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমরা যে যাকাত ব্যয় কর তা বৃদ্ধি পায়, আর তারাই হলো সমৃদ্ধশালী’ (সুরা রুম-৩৯)
রাসুল সা. বলেন, নি:সন্দেহে দান-সদকা (যাকাত) আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে (তিরমিয়ি শরিফ-৬৬৪) অন্য হাদীসে রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি নিজ সম্পদের যাকাত আদায় করে তার এবং তার সম্পদের যাবতীয় অনিষ্টতা দুর হয়ে যায়। (সহিহ ইবনু খুযাইমা ৪/১৩)
যাকাত আদায় না করার শাস্তি : রাসুল সা. বলেন, আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন অথচ সে তা থেকে যাকাত আদায় করেনি তার সেই সম্পদকে কেয়ামতের দিন মাথায় টাক পড়া বিষধর সাপের রুপ দেওয়া হবে, যার চোখের ওপর দুটি কালো দাগ থাকবে। তারপর সেই সাপ সে সম্পদশালীর গলায় পেচিয়ে দেওয়া হবে। আর সে সাপ তার মুখে দংশন করতে থাকবে আর বলেবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়। (বুখারী শরিফ ১/১৮৮)
যাকাতের উদ্দেশ্য : ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম জাওঝি রহ. বলেন, যাকাতের মৌলিক উদ্দেশ্য ৩টি: ১. দরিদ্রদের সহযোগিতা করা। ২. সমুদয় সম্পদ পবিত্র করা । ৩. আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। (ইয়লামুল মুওয়াক্কিয়িন,যাকাত সেমিনার জার্নাল ৮/১৯১
রমজান মাসে যাকাত আদায়: চন্দ্র বছরের যেদিন নেসাব পরিমাণ মালের বর্ষ পূর্তি হবে সেদিনই মূলত যাকাত ফরয হয়। তা বছরের যে কোন সময় হতে পারে। নির্দিষ্ট কোন মাস নেই। তবে হযরত উছমান রা. বলতেন ‘এই মাস তথা রমজান মাস যাকাত আদায়ের মাস। সুতরাং যার দায়িত্বে ঋণ আছে সে যেন তা পরিশোধ করে বাকি সম্পদের যাকাত আদায় করে। (কিতাবুল আমওয়াল,আছার-১২৪৭) বিখ্যাত তাবিয়ি ইব্রাহিম নাখয়ি রহ. বলেন, রমজান যেহেতু বরকতের মাস,অধিক সওয়াবের মাস সে দিকে লক্ষ্য করে হযরত উছমান রা. এমন কথা বলতেন। সুতরাং যদি কারো রমজানের পূর্বেই যাকাত বর্ষ পূরণ হয় তাহলে সে অল্প অল্প করে যাকাত আদায় করবে, আর বাকি অংশ রমজান মাসে আদায় করবে তাহলে রমজানের নেকিও লাভ হবে।
যাকাতযোগ্য সম্পদের নেসাব : যাকাতযোগ্য সম্পদ প্রথমত ৩ প্রকার।
১.স্বর্ণ, রুপা, নগদ টাকা আর ব্যবসায়িক পণ্য ২. ফল-ফসলের যাকাত ৩.পালিত পশুর যাকাত (গরু-মহিষ, উঠ, ছাগল-ভেড়া)। প্রতিটি বিষয়ের নেসাব ভিন্ন ভিন্ন যা স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে। এখানে শুধু প্রথম প্রকারের আলোচনা করা হল।
প্রথম প্রকার : যাকাতের ক্ষেত্রে মূল নেসাব হলো স্বর্ণ ও রুপা। হাদীসের ভাষায় স্বর্ণের নেসাব হলো ২০ দিনার। বর্তমান হিসাবে ৭.৫ ভরি বা ৮৭.৫২ গ্রাম । রুপার নেসাব হলো ৫ উকিয়া বা ২০০ দেরহাম। বর্তমান হিসাবে ৫২.৫ ভরি বা ৬১২.৬০ গ্রাম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৩৬৪,আপ কে মাসাইল ৩/৩৫৬) সোনা-রুপা সর্বাবস্থায় যাকাতযোগ্য সম্পদ। তা ব্যবহৃত হোক বা অব্যবহৃত হোক। মেয়ের বিয়ের উদ্দেশ্যে, স্ত্রীকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, লকারে জমা, অন্যের কাছে গচ্ছিত অথবা অন্য কোন কিছুর সাথে লেগে থাকা যেমন : পোশাকে, আসবাবপত্রে, কলমে ইত্যাদি সবই যাকাতযোগ্য।
কাগুজে মুদ্রা বা নগদ টাকা পয়সার বিস্তৃত রুপ :
১. নিজের কাছে গচ্ছিত টাকা সেটা; হজে¦র উদ্দেশ্যে, মেয়ের বিয়ের উদ্দেশ্যে, গৃহ নির্মাণ, কুরবানি ইত্যাতি।
২. ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত যে কোন প্রকার টাকা। (সুদ হিসাবে প্রাপ্ত টাকা বাদে)
৩. কারো নিকট ব্যাবসার মূলধন হিসেবে প্রদত্ত অর্থ। (মুনাফা হলে সেটিও যুক্ত হবে)
৪. বন্ড, ডিভেঞ্চার, সঞ্চয়পত্রের মূল্য, ট্রেজারি ইত্যাদি পন্থায় প্রদত্ত মূল অর্থ।
৫.জীবনবীমা পলিসিতে প্রদত্ত অর্থ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকৃত অর্থ,বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংক গ্যারান্টি হিসাবে প্রদত্ত অর্থ, বায়না হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ,সিকিউরিটি মানি হিসাবে প্রদত্ত অর্থ (যা ফেরতযোগ্য), উসুলযোগ্য ঋণ,ক্রেতার নিকট বিক্রেতার পাওনা বকেয়া মূল্য, প্রফিডেন্ট ফান্ডে প্রদত্ত ঐচ্ছিক অর্থ ইত্যাদি। এখানে উদাহরণ স্বরুপ কিছু দেওয়া হলো। এমন আরো অনেক আধুনিক রুপ আছে। বর্ণিত সকল প্রকার অর্থ যাকাতযোগ্য নগত ক্যাশের আওতাভুক্ত। সুতরাং এসব টাকার যাকাত আদায় করতে হবে।
ব্যাবসায়িক পণ্য : ব্যাবসায়ি পণ্যে যাকাত আবশ্যক। সাহাবাদের(রা.) সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত এটিই। হযরত সামুরা রা. বলেন, রাসুল সা. আমাদের আদেশ করতেন, আমরা ব্যবসার জন্য যেসব পণ্য প্রস্তুত করি সে সবের যাকাত আদায় করতে। (আবু-দাউদ শরিফ-১৫৬২)
ব্যবসায়ি পণ্য বলতে কি উদ্দেশ্যে : ব্যবসায়ি পণ্য বলতে আমরা মনে করি পেশাদার ব্যবসায়ি হতে হবে। অথচ বিষয়টি এমন নয়। ব্যবসায়ি পণ্য বলতে বিক্রি বা সেল করার নিয়ত থাকা। অর্থাৎ যদি কোন পন্য,জমি,পশু ইত্যাদি ক্রয় বা কোন বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকানা অর্জনের সময় তা বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ত করা হয় তাহলেই সেটা ব্যবসায়ি পণ্য বলে বিবেচিত হবে। যদিও সে প্রচলিত বা পেশাদার ব্যবসায়ি নয়। অর্থাৎ ব্যবসায়ি পণ্য বলতে কোন জিনিসের মালিকানা লাভ করার সময় তা বিক্রি করার নিয়ত করলেই সেটি ব্যবসায়ি পণ্য হবে।
যাকাতযোগ্য ব্যবসায়ি পণ্য : ব্যবসার মূল পণ্য, পণ্যের কাচামাল (জধি গধঃবৎরধষং) , যে পণ্য কাউকে কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রি করতে বলা হয়েছে ইত্যাদি। তবে উৎপাদনের জন্য মেশিন,ভাড়ায় চালিত গাড়ি,বাড়ি,দোকান ইত্যাদির যাকত হিসাব হবে না। অবশ্য এসবের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের যাকাত আদায় করতে হবে।
যাকাতযোগ্য নয় এমন পণ্য : ১. পণ্য পরিষ্কার করার জন্য ক্রয়কৃত সামগ্রি যেমন: সাবান, ওয়াশিং পাওডার ইত্যাদি। ২. পণ্য সংরক্ষণের জন্য আলমারি, সেলফ, ফ্রিজ ইত্যাদি ৩. পণ্য পরিমাপের জন্য দাড়ি, মেশিন ইত্যাদি। ৪. পণ্য প্যাকেটিং করার জন্য ক্রয়কৃত বিভিন্ন দ্রব্য যা বিক্রির জন্য নয়। শুধু পণ্যসেবা দেওয়ার জন্য খরিদকৃত এবং এর মূল্য পণ্যের সাথে সংযুক্তও করা হয় না। যেমন : পলিথিন, কাগজের কার্টুন, পত্রিকা, কাগজ ইত্যাদি।
নেসাবের বিভিন্ন সুরত : ১. কারও কাছে শুধু সোনা আছে অন্য কোন সম্পদ নেই, তাহলে ৭.৫ ভরি সোনা থাকলে তবেই যাকাত ওয়াজিব হবে। এর সামান্য কম হলেও নেসাব হবে না। যাকাত আদায় করতে হবে না।
২. কারও কাছে শুধু রুপা আছে অন্য কোন সম্পদ নেই, তাহলে ৫২.৫ ভরি রুপা থাকলে তবেই যাকাত ওয়াবিজ হবে। এর কম থাকলে নেসাব হবে না। যাকাত আদায় করতে হবে না।
৩. কারও কাছে কিছু নগদ ক্যাশ,কিছু সোনা-রুপা আছে। তবে স্বতন্ত্রভাবে কোনটাই নেসাব পরিমাণ নই। তাহলে উক্ত সুরতে নেসাব রুপার মূল্য ধরতে হবে। অর্থাৎ ক্যাশ,সোনা,রুপা মিলিয়ে যদি ৫২.৫ ভরি রুপার সমমূল্য হয় (যা বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা) তাহলে তাকে যাকাত দিতে হবে।বর্তমানে এই প্রকারটির প্রয়োগই অধিক।
৪. কারও কাছে শুধু নগদ টাকা বা ব্যবসায়ী পণ্য আছে তাহলেও রুপার নেসাব তথা ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্য হিসাবে যাকাত ওয়াজিব হবে।
যে মূল্য ধরতে হবে : সোনা-রুপার ক্ষেত্রে যেদিন যাকাত বর্ষ পূর্ণ হবে সে দিনের বিক্রয় বা ক্রয় মূল্য ধরে হিসাব করবে। আর ব্যবসায়ী পণ্যের ক্ষেত্রে ঐ দিনের পাইকারী বিক্রয় মূল্য ধরে যাকাত হিসাব করবে।
ঋণ: যাকাত হিসাব করার সময় সমুদয় সম্পদ একত্র করে নিট সম্পদ থেকে ঋণ বাদ দিবে। এখানে ঋণ বলতে সাধারণ ঋণ যা বিশেষ প্রয়োজনে নেওয়া হয় তা বাদ দিবে। তবে উন্নয়নমূলক ঋণ,হাউজ লোন,শিল্প লোন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আবাসন ক্রয়,জামি ক্রয় ইত্যাদি লোন যাকাতের আওতা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।(ফিকহি মাকালাত-৩/১৫৬)
যাকাতের পরিমাণ : কারও উপর যাকাত ওয়াজিব হলে সে শতকরা ২.৫% হারে যাকাত আদায় করবে। তবে মনে রাখতে হবে যাকাত আরবি বছর হিসাবে আদায় করতে হয়। সোলার ক্যালেন্ডার বা সৌরবর্ষ হিসাবে যাকাত আদায় করবে না। কারণ সৌর বর্ষ হয় ৩৬৫ দিনে, আর চন্দ্র বর্ষ হয় ৩৫৪ দিনে। সুতরাং কেউ যদি সৌর বর্ষ হিসাবে যাকাত আদায় করে তাহলে ১১ দিনের যাকাত আদায় হবেনা।কারণ সৌর বর্ষ চন্দ্র বর্ষ থেকে ১১ দিন বেশি। এভাবে সৌর বর্ষ হিসাবে যাকাত দিলে ৩৩ বছরে পূর্ণ এক বছরের যাকাত অনাদায়ী হয়ে যাবে। অবশ্য মুফতি তাকি উছমানী বলেন, যদি সৌর বর্ষ হিসাবে যাকাত দিতে চাই তাহলে ২.৬.% হারে হিসাব করবে। তবে সুন্নাহ হল চন্দ্র বর্ষ হিসাবে যাকাত আদায় করা। (ফিকহি মাকালাত-৩/১৭০)
যাদের যাকাত দেওয়া যায় না:
১.স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবে না।
২. পিতা-মাতা,দাদা-দাদী,নানা-নানী, তথা পিতা-মাতার মাতৃকুল ও পিতৃকুলের সকল উদর্¦তন সদস্য যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এদের যাকাত দেওয়া যায় না।
৩. নিজ ওরসজাত ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী, দৌহিত্র-দৌহিত্রী এভাবে অধস্তন কাউকেই যাকাত দেওয়া যায় না।
৪. অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা নাবালক কাউকে যাকাদ দেওয়া যায় না। তবে তার অভিভাবক অতি দরিদ্র হলে সেই বাচ্চার পক্ষে অভিভাবক যাকতা গ্রহণ করতে পারবে।
৫. যাকাত গ্রহীতা সইয়্যিদ বংশের না হতে হবে অর্থাৎ হযরত ফাতেমা,আলী,আব্বাস, জাফর,আকিল ও হারিস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব (রা.) এদের বংশের কাউকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
৬. কোন অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া যায় না। হ্যাঁ প্রয়োজেনে তাদেরকে সাধারণ দান দিয়ে সাহায্য করা যায়।
যাদের যাকাত দেওয়া যায়: পবিত্র কুরআনে যাকাতের প্রপক সম্পর্কে ৮ শ্রেণির মানুষের আলোচনা করা হয়েছে। ১. ফকির ২. মিসকিন ৩. যাকাত আদায়ের কাজে নিয়জিত কর্মচারী ৪. যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য হয় তাদের ৫. দাসমুক্তি ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি । ৭. আল্লাহর পথে। ৮. মুসাফির।(সুরা তাওবা-৬০) উক্ত আট খাতের মধ্যে প্রথম দুটি তথা ফকির,মিসকিনই বর্তমানে যাকাত আদায়ের মূল খাত । ফকির মিসকিন বলতে যাদের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। বাকি ৬টি খাত বিষদ আলোচনা ও শর্ত সাপেক্ষ বিষয়। যেমন: আমিল বা যাকাত আদায়করী ব্যক্তি। এখানে যে কোন যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি উদ্দেশ্য নয়। বরং যাকাত আদায় কারী ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলামী রাষ্ট্ররে পক্ষ থেকে যাকাত উছুল করার কাজে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যাক্তি যিনি পূর্ণ ক্ষমতা প্রপ্ত হয়ে থাকেন। (যা বর্তমানে আমাদের দেশে প্রয়োগ নেই) এজন্য বাকি ৬ খাত বিজ্ঞ সচেতন আলিম/মুফতিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যেতে পারে।
যাকাত আদায়ের শর্ত: ১. নিয়ত করা অর্থাৎ যাকাত দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করে দিতে হবে । অবশ্য গ্রহীতাকে যাকাত দিচ্ছি এমন বলা জরুরী নয়। ২. মালিকানা বানিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ যাকাত গ্রহীতাকে পূর্ণ মালিকানা বানিয়ে দিতে হবে। এজন্য কোন প্রতিষ্ঠান,এন.জি.ও ইত্যাদিকে যাকাত দেওয়া যায় না। কারণ সেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তি মালিকানা হয় না। হ্যাঁ! তবে দ্বীনি মাদরাসা যেখানে এতিম,অসহায়,দরিদ্র ছাত্ররা থাকে এবং লিল্লাহ বোর্ডিং এর ব্যবস্থা আছে সেখানে দেওয়া য়ায়। এমন মাদরাসার দায়িত্বশীলগণ মূলত ঐসকল ছাত্রদের পক্ষ্য থেকে যাকাতের টাকা উছুল করার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। যারা তাদের পেছনে এ অর্থ সুষ্ঠু ভাবে ব্যায় করে থকে। তবে এক্ষেত্রে যাকাত দাতাকে নিশ্চত হতে হবে যে, সে সকল দ্বীনি মাদরাসাগুলোতে সঠিক ভাবে এর গ্রহণ,প্রয়োগ ইত্যাদি হয় কি না? ৩. সহিহ মাসরাফ বা যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে যাকাত পৌছে দেওয়া।যে কোন ব্যক্তিকে দিলে যাকাত আদায় হবে না। যা উপরে বলা হয়েছে ৪. কোন প্রকার বিনিময় না হওয়া। যেমন: বাড়ির কাজের লোক,গাড়ির ড্রাইভার,ফ্যক্টরির শ্রমিক ইত্যাদি কাউকে বেতন-বোনাস হিসাবে দেওয়া। তবে মূল বেতন-বোনাস দেওয়ার পর অতিরিক্ত তাদের যাকাদের অর্থ দেওয়া যাবে, যদি তারা উপযুক্ত হয়।
লেখক:মুহাদ্দিস,লেখক,অনুবাদক
hasanmoradcd@gmail.com

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024