আশিক মাহমুদ:
১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ সাঁড়াশী আক্রমণের মুখে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সহ তাদের এ দেশীয় দোসররা পিছু হটে। ৮ ডিসেম্বর সকালে হানাদাররা পরাস্ত হয়ে ভেড়ামারা-পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর মাইনস চার্জ (বোমা) নিক্ষেপ করে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের ১২ নং স্প্যানটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে পদ্মা নদী পার হয়ে পালিয়ে গেলে এদিন এ শহরটি শত্রু মুক্ত হয়।
১৭৩ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নিয়ে এই দিন ৮নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর আবুল মুনছুরের অধীনে জেলা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা রাশেদুল আলম এর নেতৃত্বে ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে সকাল ৭টার সময় ভেড়ামারা ফারাকপুরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। প্রায় ৭ ঘণ্টা ব্যাপী যুদ্ধে টিকতে না পেরে সন্ধ্যার আগেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। মুক্তিপাগল জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে ভেড়ামারায় প্রবেশ করতে থাকেন। তারা বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে।
৮ ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হয় ভেড়ামারা। নয় মাস যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মধ্যে অন্ততঃ ১৫টি খন্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ৮ মুক্তিযোদ্ধা এবং শতাধিক মুক্তিকামী জনতা শহীদ হয়েছেন।