ফিরোজ মাহমুদ :
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্ধকৃত ১৫ টাকা কেজি চাউলের খাদ্য বান্ধব চাউলের কার্ড প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা, নিকটাত্বীয় এবং ধনীদের দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত অতিদরিদ্র, দুস্থ, প্রতিবন্ধী শ্রেনীর মানুষ। মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১টি ওয়ার্ডেই ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার অতিদরিদ্র মানুষকে কম মূল্যে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে শহরে ওএমএস এবং গ্রামে খাদ্য বান্ধব প্রকল্প চালু করে। মাত্র ১৫ টাকা কেজি ধরে ৩০ কেজি চাউল প্রতি মাসে এই কার্ডের গ্রাহকরা পাবে। ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রতির মাধ্যমে খাদ্য বান্ধবের এই কার্ড বিতরন করা হয়। মুখ দেখে দেখে চেয়ারম্যান মেম্বাররা কার্ড দিয়েছেন। অনেক সময় নগদ টাকা নিয়েও চাউলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ, ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সাত্তার এলাকার প্রকৃত অতিদরিদ্র সুফলভোগীদের নামকায়াওস্ত্রে কার্ড দিয়ে বেশির ভাগ কার্ডই অনিয়মে ভরা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডে খাদ্য বান্ধব ১৫ টাকা কেজি দরের চাউলের ভাতার কার্ড নিয়েছেন, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের ক্রীড়া ও যুব বিষায়ক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। যার কার্ড নং ১৫০৮। কার্ডের ক্রমিক নং ২৭৯। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ নেতার ভাই আওয়ামীলীগ নেতা শরীফুজ্জামান সাবলু। যার কার্ড নং ১৫১৩। কার্ডের ক্রমিক নং ২৮২। আওয়ামীলীগ নেতার বোন নাছিমা আক্তার রুমাও কার্ড পেয়েছেন। যার কার্ড নং ১৫১৭। কার্ডের ক্রমিক নং ১৫৩। খাদ্য বান্ধবের কার্ড পেয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদের ভাতিজা, হাসানুজ্জামান ওরফে আব্দুল বারী। যার কার্ড নং১৫৩৩। কার্ডের ক্রমিক নং ২৯২। এছাড়াও ধনী বা বড় ব্যবসায়ী সেন্টু আলী কার্ড নং ১৫২৭,ছাইদুর রহমান কার্ড নং ১৬২২, রনি ইসলাম ১৬২৪, ইয়াছিন কার্ড নং ১১০৩, মোঃ মান্নান ১১০৯, সাবলু হোসেন কার্ড নং ১২০০, গোলজার হোসেন কার্ড নং ১২১১, জহুরুল হক কার্ড নং ১৩৭৪, শিশির আক্তার তুহিন কার্ড নং ১৩৯০, রবিউল ইসলাম কার্ড নং ১৪৫৭, ওমর আলী কার্ড নং ১৪৬৫, আনোয়ার হোসেন কার্ড নং ১৪৭২, সাহাদুল ইসলাম কার্ড নং ১৪৮৯।
৮ নং ওয়ার্ড নতুনহাট এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলীয় লোকজনদের কে বিভিন্ন কার্ড দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। আওয়ামীলীগের লোক, ধনী এবং নিকটাত্বীয়দের কে চেয়ারম্যান এবং মেম্বার রা প্রধান্য দিয়ে খাদ্য বান্ধব, ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছে। তিনি তদন্ত করে সকল কার্ড বাতিল করার দাবী জানান।
এ দিকে মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, খাদ্য বান্ধব এ সব কার্ড ৬/৭ বছর আগের। আমি ২ বছর আগে মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেছি। তবে কার্ড’র তদন্ত করতে মাঠে নামলে , অনেক কার্ড প্রাপ্ত ব্যাক্তিরাই কার্ড পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবে।