১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | বিকাল ৫:৪২
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন
নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ভেড়ামারা-মিরপুর উপজেলা/ পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ

নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ভেড়ামারা-মিরপুর উপজেলা/ পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ

শাহ্ জামাল :
পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে হাইকোর্ট। শনিবার দুপুরে ভেড়ামারার সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসাইন হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এসময় ভেড়ামারা থানা পুলিশ এবং নৌ পুলিশের সমন্বয়ে একটি আভিযানিক দল উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবাধে, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় ব্যাপক ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এবং মিরপুর উপজেলা। ভাঙ্গনের মুখে পড়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ২টি উপজেলার পদ্মার নিকটবর্তী এলাকাসমুহ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে মসলেমপুর ও ফয়জুল্লাহপুর এলাকার পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন এবং ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর অঞ্চলের চীফ ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান সিরাজ বলেন, পদ্মা নদীতে অবাধ এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বালু উত্তোলন চলছে। যার কারণে তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ভেড়ামারা এবং মিরপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো। বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব না হলে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে এ উপজেলার বৃহত অংশ। অপর দিকে পাবনার অংশে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় পদ্মা নদী ভরাট করে মাঝখানের দিকে চলে এসেছে। তীব্র ভাঙ্গনের এটিও একটি কারন বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পদ্মার বালুমহল এবং তরিয়া মহল নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ইজারাদেয় সরকার। নিদিষ্ট পরিমান বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু বেপরোয়া বালু ব্যবসায়ীরা অসংখ্য ড্রেজার স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে। তাদেরকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। আইন অমান্য করে যত্রতত্র বালু উত্তোলন এবং সংরক্ষণ করে রাখায় বালুর পানি গড়ায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে শুধু তীরবর্তী অঞ্চলই নয়, ঐতিহ্যবাহী হার্ডিং ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রীজ হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারনেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগ একটি আদেশে এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। শনিবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আনোয়ার হোসাইন এর নেতৃত্বে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযানিক দল নিয়ে পদ্মানদীর মসলেমপুরে অভিযান পরিচালনা করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় বালু উত্তোলনের কাজ।

এ দিকে গত মঙ্গলবার সকালে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন। তিনি জানান, আমি এবং ভেড়ামারার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের একাধিক বার নির্বাচিত এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ’র হস্তক্ষেপে খুব দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কাজ শুরু হবে। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল আলম চুনু, ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রাজা, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব শামীমুল ইসলাম ছানা , ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম নজু, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ প্রকৌশলী হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বুলবুল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধরমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ, বাহিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেম্বার রহমতুল্লাহ, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা আবু দাউদ, বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আসাদুজ্জামান কচি সহ পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন ট্রলার যোগ প্রথমে মসলেমপুর বালুরঘাট ও পরে ফয়জুল্লাহপুর রায়টা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পদ্মা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ভাঙ্গন কবলিত এলাকা স্বচক্ষে দেখেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন মোকাবেলার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির আনুকূল্যে অতিদ্রুত ভাঙ্গন রোধের টেকসই, স্থায়ী ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024