১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | রাত ১১:১৯
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন
চন্ডিদাস আর রজকীনির প্রেমোপখ্যান কিংবদন্তী নয়,সত্য

চন্ডিদাস আর রজকীনির প্রেমোপখ্যান কিংবদন্তী নয়,সত্য

প্রেমেরই টানে ভাজা মাছ হয়ে যায় তাজা
ইতিহাস রচে তারা প্রেমের হয় রাজা
প্রেম মানে না জাতি ধর্ম, প্রেম মানে না সমাজ-সংসার। তাই প্রেমের টানে সিংহাসন ছেড়ে পথিক হয়েছেন অনেকেই। আবার প্রেমের টানে আপন করে নিয়েছেন কেউ কেউ পৃথিবীর যত দুঃখ! পৃথিবীর ইতিহাসে যে সকল প্রেমিক যুগল শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন পেয়েছেন, যাদের নিয়ে হাজার বছর ধরে কবিতা রচনা করেছেন, করেছেন গল্প-ঔপন্যাস সহ অজ¯্র গান ও গীতিকাব্য তার প্রায় সবই বেদনাবিধুর। আগুনে পুড়ে পুড়ে সোনা হবার মতই বিরহে জ্বলে উঠে ভালোবাসার রুপ। আবার বিরহ-বিধুর রোমান্সের ঘটনাও লিখা হয়েছে বহু প্রেম কাহিনিতে।
উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের কালজয় ট্রাজেডি ‘‘রোমিও জুলিয়েট’’, গ্রীসের ‘‘ অর্ফিয়াস ও ইউরিডাইস’’এর অন্ধ প্রেমের কাহিনি, কালজয়ী গ্রীক লেখক হোমারের ‘‘প্যারিস- হেলেন’’ এর অমর প্রেম, মিশরের ‘‘ক্লিওপেট্্রা এবং মার্ক এন্টোনি’র’’ ঐতিহাসিক প্রেম, মধ্যযুগের ইরানি কবি নিজামী’র স্বর্গীয় প্রেমের প্রতীক খ্যাত ‘‘লাইলী মজনুর’’ প্রেম, উপমহাদেশের ‘‘রাধা-শ্যাম’’ এর প্রেম, মুঘল সা¤্রাজ্যের ঐতিহাসিক ‘‘আনারকলি- সেলিমের’’ প্রেম, ‘‘শিরি ফরহাদ’’, ‘‘রাধা-কৃষ্ণের’’, শরৎ চন্দ্রের ‘‘ রাজলক্ষèী-শ্রীকান্ত কিংবা তার অমর প্রেম কাহিনি ‘‘দেবদাস-পার্বতী’র প্রেমের ন্যয় বিখ্যাত হয়ে আছে প্রেমের ইতিহাসে ‘‘ চন্ডিদাস-রজকীনির ’’ প্রেম কাহিনি।
অধরা প্রেমের এক বিয়োগান্ত ঘটনা যা শতাব্দী থেকে শতাব্দী এদেশের মানুষের মনের মনি কোঠায় স্থান করে নিয়েছে তা হচ্ছে চন্ডিদাস-রজকীনির প্রেম কাহিনি। তাই বলে চন্ডীদাস রজকীনির প্রেমকাহিনী অন্য প্রেম গুলোর ন্যায় কিংবদন্তী নয়। তাদের এ প্রেম কাহিনি একটি সত্য ঘটনা। এ প্রেমের সত্যতা এখনো স্বীকার করে চন্ডিদাস-রজকীনির নিজ গ্রাম ধোপাখালীর মানুষ। আনুমানিক ১৪ শতকের শেষ ভাগের দিকের ঘটনা। চন্ডিদাস রজকীনির বাড়ি বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের জেলা মাগুরা’র শালিখা উপজেলার শতখালি ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামে। ধোপাখালী গ্রামে ধোপাদের বসবাস ছিল। এ জন্য এ গ্রামের নাম হয় ধোপাখালী। চন্ডিদাস-রজকীনির বাড়ির মাঝ দিয়ে একটি খর¯্রােতা নদী বয়ে যায়। ভাবের সূতা আর প্রেমের ছিপ এই মিলে ছিল চন্ডিদাসের বড়ঁশি। সেই বড়ঁশিতেই আটকে ফেললো রজকীনিরে।
দুধে আলতা মেশানো অপরুপ রুপের অধিকারী রজকীনি ছিল গরিব ধোপার মেয়ে। সে নদীর ঘাটে কাপড় ধুতো। আর চন্ডিদাস ছিল ব্রান্মনের ছেলে। রজকীনির প্রেমে চন্ডীদাস পাগল হয়ে নদীর অপর পারে বড়ঁশি ফেলে বসে থাকে। প্রেমের টানে এভাবে এক এক করে বারো বছর বড়ঁিশ বাইলো চন্ডিদাস। এ প্রজে¥র ছেলে-মেয়েরা বারো বছর কেন, বারো মাস এমনকি বারো দিনও একে অন্যের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। আবার চন্ডিদাস বারো বছর ধরে একটি মাত্র বড়শি ফেলে রাখলেও এ প্রজে¥র ছেলে-মেয়েরা একবারে একাধিক বড়শির ছিপ ফেলে রাখে! যে কোন একাট তো ধরবে! আর একটুতেই আধূনিক শব্দের বাস্তবায়ন করে ফেলে। যাকে বলে ব্রেক আপ ! বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রেম ভেঙ্গে গেলে কিংবা ছেলেদের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি দেখলেই মানুষ বলতো ‘‘ বেটা প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে ‘‘দেবদাস’’ হয়ে গেছে। আজ এ শব্দটি বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এর স্থলে আজ ব্যবহৃত হচ্ছে বিদেশি শব্দ ‘‘ ব্রেক আপ’’।
একদিন নদীর ওপার থেকে রজকীনি বলে উঠলো, এতোদিন ধরে বড়ঁশি ফেলে রেখেছো কোন মাছ কি পেয়েছো ঠাকুর ? চন্ডিদাস বললো, এইমাত্র বড়ঁশিতে ঠোকর মারলো। আশা করি খুব শীঘ্রই মাছকে ধরতে পারবো। ধোপার মেয়ে হলেও রজকীনি ছিল খুব বুদ্ধিমতী । সে চন্ডিদাসের কথা ও অর্থ সবই বুঝতে পারলো। আর এভাবেই তাদের দুজনার প্রেম হয়ে যায়। হয়ে যায় মন দেয়া- নেয়া। হয়ে যায় তারা একে অপরের দিওয়ানা। একদিন তারা হাতে হাত রেখে শফৎ করে কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যাবে না।
চন্ডিদাস-রজকীনির প্রেম তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা সহজভাবে নেয়নি। বিশেষ করে তখনকার হিন্দুসমাজ। কেননা চন্ডিদাস ছিল ব্রাক্ষনের ছেলে। আর রজকীনি ছিল সামান্য ধোপার মেয়ে। ছোট জাতের মেয়ে রজকীনির সাথে হিন্দু ধর্মের অতি উচু জাত খ্যাত ব্রাক্ষনের ছেলের কখনো সম্পর্ক হতে পারে না ! প্রেম যে জাত কুল মানে না ! মানে না ধর্ম -কর্ম,শাসন, বারণ, মানে না কোন সীমানার প্রাচীর! কিন্তু সমাজপতি ও ধর্মের লেবাস পরা মানুষগুলো যেন এসবের উর্দ্ধে! তাই তারা জোর করে , পরিবারের উপর চাপ দিয়ে রজকীনির অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। সে কথা পরে বলছি। কিন্তু তার আগে চন্ডিদাস রজকীনির প্রেম-কাহীনিতে দুটি চমকপ্রদ বিষয় রয়েছে যা সত্যি বিস্ময়কর। যার একটি হচ্ছে প্রেমের ইসকে ভাজা মাছ তাজা হওয়া এবং ব্রাক্ষনদের নাকানী-চুকানী খাওয়ানো।
চন্ডিদাস রজকীনির প্রেমোপাখ্যান একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা হচ্ছে কৈ মাছ কাহীনি। এটি তাদের প্রেমকে একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। সমাজ ও পরিবারের উপর থেকে চন্ডিদাসকে চোখে চোখে রাখা হতো যেন সে রজকীনির সাথে দেখা করতে না পারে। চন্ডিদাসের প্রিয় খাদ্য ছিল কৈ মাছ ভাজা। রজকীনি তার প্রেমিকের সাথে গোপনে দেখা করার সময় একটি কৈ মাছ ভেজে ঘটিতে করে চন্ডিদাসকে দেয়। চন্ডিদাস রজকীনির সাথে দেখা করে ফেরার সময় পথিমধ্যে এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেরা তার ঘটিতে কি আছে দেখতে চায়। ধরা পড়ার ভয়ে চন্ডিদাস বলে, আমি নদী থেকে কই মাছে ধরে এনেছি। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে না। তারা জোর করে ঘটিটা নিয়ে দেখতে চায়। চন্ডিদাস জানে ঘটি তাদের হাতে গেলে সে ধরা পড়ে যাবে। কাড়াকাড়ি করতে করতে একসময় চন্ডিদাসের হাত থেকে ঘটিটা ছিটকি পড়ে যায়। চন্ডিদাস ভয় পেয়ে যায়, এইবার বুঝি সত্যি সত্যি ধরা পড়ে গেলাম! রজকীনির দেওয়া ভাজা মাছ বুঝি তারা দেখে ফেলবে ! কিন্তু অবাক ব্যাপার, ভাজা কৈ মাছ তাজা হয়ে লাফাতে থাকে। এ যেন তাদের ভালোবাসার ইসকেরই ফল!

প্রেমেরই টানে ভাজা মাছ হয়ে যায় তাজা
ইতিহাস রচে তারা প্রেমের হয় রাজা।
যদিও শেষে তাদের এ প্রেমে মিলন হয়না! মিলন হয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। তাতে কি! ব্যর্থতাই তো প্রেমের সার্থকতা! চন্ডিদাস- রজকীনির প্রেম কাহীনি এলাকার মধ্যে জানাজানী হয়ে গেলে তৎকালীন সমাজপতি ও পুরাহিতরা তাদের এক ঘরে করে। শুধু তাই না। রজকীনির পরিবারের উপর নানাবিধ বিধি বিধান জারি করে। রজকীনির বাবা জোড় হাত করে ক্ষমা চাইলে তারা শর্ত দেয় যে, একশত ব্রাক্ষনকে কাসার বাসনে নিমন্ত্রন করে খাওয়ালে এবং রজকীনিরে অনত্র বিয়ে দিলে তারা এ শাস্তি বিবেচনা করবে। সমাজচ্যুত থেকে এ যাত্রা রক্ষা পাবে । কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষ, গরিব ধোপা এতো কাসার বাসন ও এতো মানুষকে খাওয়ানোর ক্ষমতা তার নাই বললেও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। উপায় না দেখে রজকীনির অসহায় বাবা রাজী হয়। তৎকালীন ব্রাক্ষনরা কারো হাতের রান্না খেত না। উচু জাতের দাবীদার ব্রাক্ষনরা মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলেই যে আগুন জ¦লে সেই আগুনেই তারা রান্না করে খায়। রজকীনির বাবা বাজার করে তাদের হাতে দেয় । শুরু হয় তাদের রান্নার আয়োজন। তারা রান্না করার জন্য আগুন জ্বালাতে ব্রাক্ষণরা ফুঁ দেয়,কিন্তু আগুন জ্বলে না । একে একে সব ব্রাক্ষন ফুঁ দিয়েও আগুন জ্বালাতে না পেরে লজ্জায় পড়ে যায়। এমন সময় ব্রাক্ষনদের ঘোষিত কুলটা, অসতী, একঘরে মেয়ে রজকীনি এসে তার প্রেমের দোহায় দিয়ে চুলায় ফুঁ দিলে সংগে সংগে আগুন জ্বলে যায়। তা দেখে লজ্জায় ব্রাক্ষনরা মাথা নিচু করে না খেয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু খেতে না পরলেও তাদের চাপ অব্যাহত থাকে রজকীনির অনত্র বিয়ে দেওয়ার। আর চন্ডিদাসকে নজরে রাখা হয় যেন কোন ভাবেই সে রজকীনির সাথে দেখা করতে না পারে।
তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার চাপে কচি কচি দুটি নিঃস্পাপ মুখের আনন্দ- হাসির প্রদ¦ীপ এক ফুৎকারে দিলো নিভিয়ে! তথাকথিত ধর্মগুরু ও সমাজপতিদের চাপে পড়ে রজকীনির বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রাণের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ আজ তাকে ছেড়ে চলে যাবে! এ জ্বালা অসহ্য! এ জ্বালা সওয়া দুরহ!

শিঁকল কেটে যাচ্ছে আজ প্রাণের মানুষ তারে
কতো স্মৃতি ভাসছে মনে ভুলবো কেমন করে!
সর্বাঙ্গ জ্বলছে সদাই বন্ধুর প্রেম আগুনে
বন্ধু বিহনে আমি বাঁচি বলো কেমনে!
রজকীনি বিয়ের পর যে পথে শ্বশুর বাড়ি যাবে, তাকে একটিবার দেখার জন্য প্রেমে পোড়া চন্ডিদাস সেই পথের ধারের একটি গাছের উপর উঠে বসে থাকে। প্রাণের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ আজ তাকে ছেড়ে চলে যাবে! বধু বেশে তাকে দেখতে কেমন লাগে, তাকে শেষ বারের মতো দেখতে চায় ! নববধু বেশে পালকিতে বসা রজকীনিকে দেখতে পায় ও। কিন্তু পোড়া মন বাধ মানেনা ! পার হয়ে যাওয়া রজকীনিকে আরও একবার, আরো একটু ভালো করে শেষবারের মতো দেখার জন্য আরো উচু ডালে উঠলে ডাল ভেঙ্গে সেখান থেকে চন্ডিদাস পড়ে যায়। পড়ার সাথে সাথেই চন্ডিদাসের প্রাণপাখি খাঁচা থেকে জনমের মতো উড়ে যায়!
মনের মানুষকে দেখতে গিয়ে উচু ডালে উঠে
দেহ-মনের ব্যথার ভারে ডাল ভেঙে পড়ে
শেষ দেখার ত্বরে প্রেমিক জীবন দিলো অকাতরে!
চন্ডীদাসের মৃত্যর খবর রজকীনির কানে যায়। রজকীনি তার স্বামীকে বলেন, ওগা আমার স্বামী,আমার ছোট বেলার খেলার সাথী মারা গেছে। আপনি অনুমতি দিলে আমি একটিবার তাকে দেখে আবার ফিরে আসবো। রজকীনির অনুনয়-বিনয়ে তার স্বামী যাবার অনুমতি দেয়। রজকীনি এসে দেখে তার প্রিয় মানুষটি দেহ চিতায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। অতীতের সব দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। তারা একদির একে অপরের হাতে হাত রেখে শফৎ করেছিল, কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যাবে না! অথচ আজ তাকে ছেড়ে তার প্রিয় মানুষটি চলে যাচ্ছে। চন্ডিদাসের দেহ লাকড়ির আগুনে পুড়লেও রজকীনির সারা শরীর মনের আগুনে পুড়তে থাকে। রজকীনি কাঁদে আর বলে, কথা ছিল কেউ কাউকে যাবো না ছেড়ে! অথচ তুমি চলে যাচ্ছো আমারে ছেড়ে, তুমি বুঝলে না আমার মনের বেদনা! তুমি আমার শাখার সিঁদুর, তুমি আমার আকাশের তারা! তুমি আমার হাতের শঙ্খ বেনু উদাস পরা! বিরহ-ব্যাথা সইতে না পেরে একসময় রজকীনি চন্ডীদাসের জলন্ত চিতাতে ঝাপ দেয়। আর এভাবেই চন্ডীদাস- রজকীনির প্রেম কাহীনি যুগ যুগ ধরে মানুষের মনের মাঝে একেবারে গেথে যায়। যতদিন পৃথিবীতে প্রেম রবে, ভালোবাসা রবে, ততোদিন মানুষ ‘‘চন্ডিদাস-রজকীনিকে’’ মনে রাখবে।
লেখক : আসমান আলী। কবি,গল্পকার ও সংগঠক।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024