| | | |
সংবাদ শিরোনামঃ
মুুক্তিযোদ্ধার জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ তাড়াশে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মিরপুরে মাটি পরীক্ষায় ডিজিটাল সেন্সর ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণ ভেড়ামারায় বিয়ে করতে এসে জরিমানা গুনতে হলো বর কে ভেড়ামারায় আলহেরা মডেল একাডেমী স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ ভেড়ামারার পদ্মায় পানির তোড়ে ভেসে গেলো কৃষক ভেড়ামারায় গনধর্ষন/ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে গেলো তরুনী ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২জন আসামি গ্রেফতার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা, দাদু আর একমাত্র ভাই সবাইকে হারিয়ে মহিমার চোখে কেবলই অন্ধকার/ আগুনে ছাই হয়ে গেল মহিমার সব স্বপ্ন

ভালো নেই কুমারখালির সাংবাদিকরা

মাহমুদ শরীফ :
মোটেও ভালো নেই তারা। বেশ কষ্টে আছেন কুমারখালীর সাংবাদিকরা। করোনা মহামারীর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে অনেক সাংবাদিকের সংসারে। এমতবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকের সাথে কথা বললে তারা তাদের নানা রকম কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

উপজেলার বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন, আমরা বেতন-ভাতা পাই সামান্য। সেই সামান্য টাকাকে সম্মনী বললে চলে! এই সামান্য টাকাতেই সংসার চলে তাদের। গত এক/দেড় বছর ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে খুব কষ্টে আছে প্রায় সবাই। ছেলে-মেয়েদের মুখের দিকে তাকাতে পারেন না। সাংবাদিকরা সরকারের কাছে জরুরি ভাবে তাদের জন্য কিছু ব্যবস্থ করার জন্য অনুরোধে করেছেন।

কুমারখালীর প্রবীণ সাংবাদিক বকুল চৌধুরী বলেন, ঘরে থাকি। বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। সংসার চলছে কষ্টে। চোখে লজ্জা, মুখে কিছু বলতেও পারি না। তিনি জানান, সরকার যদি উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের দিকে নজর না দেয়, তাহলে অনেকেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হবে।

হাবীব চৌহান জানান, পেশাগত কাজে উদ্যোমের ঘাটতি নেই, সাদামাটা জীবনযাপনে বেঁচে আছি এটাই সত্য। নিউজের ক্ষেত্র সংকীর্ণ হয়ে গেছে- তবে জীবন-সংসার তেমন ভালো চলছে না। আগামীর পথচলা শুভ হোক এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাংবাদিক লিপু খন্দকার জানান, করোনা, লকডাউন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সবই তীব্র গতিতে চলমান। সাংবাদিকরাও রয়েছে চরম খারাপ পর্যায়ে। মফস্বলের এই সাংবাদিকদের কথা কারোর ভাববার সময় নেই। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, সরকার সাংবাদিকদের প্রমোদনা দিয়েছে, কিন্ত প্রকৃত সাংবাদিকরা সেটা পাননি। তিনি করোনা মহামারীতে সাংবাদিকদের জন্য অর্থনৈতিক ভাবে ভাববার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নবীণ সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন দুঃখের সাথে বলেন, পুলিশ- বিজিবি- সেনা বাহিনী- আনসার আর ডাক্তারদের সাথে করোনার মধ্যে কাজ করছি। জীবনের শংকা রয়েছে। অন্যের জন্য কাঁদছি, নিজের জন্য কিছুই করতে পারছি না। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে বুঝতে পারছি- এই পেশায় অর্থনৈতিক সাবলম্বীদের যুক্ত হওয়া দরকার।

সাংবাদিক কে এম সিদ্দিকুর রহমান পক্ষাঘাতজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি প্রায় দেড় বছর অসুস্থ্য। তার মতে- জীবন যেখানে প্রায় অচল, সেখানে এই মহামারীর মধ্যে আরো কষ্ট বেড়েছে। পত্রিকা অফিস যা ভাতা দেয়, তাতে পেটের খাবারই হয় না। ওষুধ কেনার টাকার অভাব তো আছেই। তার পরও হাসি মুখে সবাইকে বলতে হয় ভালো আছি!

সাংবাদিক উল্লাস ক্ষোভের সাথে দুঃখ নিয়ে জানান, কেজি স্কুল ছিল, রাইস মিলের ব্যবসা ছিল সব বন্দ। সংবাদের নেশায় মাঠে ছুটে চলেছি, অত্যন্ত কষ্টে দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছি। মাঠের সাংবাদিকরা আজ প্রমোদনা পায় না, সেটা জোটে ঘরে থাকা বন্ধুদের! প্রমোদনাতে দলীয়করন ভাবতে অবাক হই! তিনি জানান, আগামী মাসেও যদি অফিস বেতন- ভাতা না দেয়, তবে ভিন্ন চিন্তা করতে বাধ্য হব।

শরিফুল ইসলাম শরিফ দুঃখের সাথে বলেন, মোটেও ভালো নেই আমরা। ভয় শংকা আর আতংক নিয়ে চলেছি। সংবাদ লিখতে আর ভালো লাগে না। বাড়ীর পশে এই বাড়ীতে তিনজন করোনায় মারা গেলেন, কী করে ভালো থাকি? তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

কে এম আর শাহিন তার মতামতে বলেন, স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে কাজ করছি। ঝুঁকি নিয়েই ছুটি। করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলাম। তিনি দূঃখের সাথে বলেন, আমাদের ঝুঁকি আছে – ঝুঁকি ভাতা নেই। স্বপ্রনোদিত হয়েই কষ্টের মধ্যে বেঁচে আছি।

সোহাগ মাহমুদ বলেন, আর জীবন চলছে না। বেতন ভাতা বন্দ, সংসার জীবন শুরু করিনি তাই হয় তো কিছু স্বস্তিতে কিছুটা আছি। নিজের খেয়ে বনের মোষ তেড়ে চলেছি, শক্তি- সামর্থ- আগ্রহ- যতদিন থাকবে, এখানে আছি ততদিন। তিনি বলেন, কোচিং চালাতাম সেটা বন্দ। অর্থনৈতিক ভাবে কষ্টের মধ্যেও হাসি মুখে সংবাদ লিখে চলেছি। আমাদের কথা কেউ ভাবে না, যদিও আমরা সবার কথা ভাবি।

রাকিব সোহাগের মতকে গুরুত্ব একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সবক্ষেত্রে ছুটে চলা নবীন সাংবাদিক মিজানুর রহমান নয়ন। তার মন্তব্য সংবাদের নেশায় ছুটে চলি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার মত কিছুই নেই। কোচিং ও ব্যবসা করতাম সেটা বন্দ। পেটে জ¦ালা থাকলেও বলার জায়গা নেই। মহান পেশা, মহৎ কাজ, তাই রাত দিন ছুটে চলেছি অবিরাম।

আরেকজন মেধাবী সাংবাদিক কাজী সাইফুল। তিনি দেরিতে হলেও তার মতামত দিয়েছেন এভাবে-আসলে মফস্বলের বেশিরভাগ সাংবাদিকই নিজের খেয়ে বোনের মহিষ তাড়ানোর মতো করে সাংবাদিকতা করেন। বেশিরভাগ সাংবাদিকই বেতনহীনভাবে কাজ করেন। এই করোনা কালীন সময়ে সাংবাদিকরা ফন্টলাইনার হিসেবে কাজ করছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো সহযোগিতার পাচ্ছেন না তারা। হ্যা সরকার সাংবাদিকদের জন্য প্রনোদনা দিয়েছে কিন্তু জেলায় শতাধিক প্রকৃত সাংবাদিক থাকা শর্তেও সেই প্রনোদনা মেইনস্ট্রিমের ১০/১২ জন সাংবাদিক পেলেও বেশিরভাগই সাংবাদিকতার সাথে যুক্তই নেই এবং নাম সর্বস্বপত্রিকার পরিচয়পত্রবহনকারী পেয়েছেন। যদিও প্রকৃত সাংবাদিকরা ১০ কেজি চাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি ডাল, দুই কেজি আলু, ১টা মিনি সাইজ সাবানের জন্য বা প্রনোদনার টাকার জন্য সাংবাদিকতা করে না।

নবীন সাংবাদিক মাসুদ রানা সাংবাদিকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত। তার মতামত হচ্ছে -ভালো কী করে থাকি? পশু চিকিৎসক না হলে খবর ছিল! পত্রিকা অফিসের দিকে চেয়ে থাকলে ডান হাত মুখে চলতো না। তিনি কষ্টের মধ্যেই তৃপ্তির হাসি হেসে সুখের সন্ধান করছেন বলে জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024