শাহ্ জামাল :
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ও পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও চাপ দিয়ে দফায় দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্ত্রী মাসুমা ফেরদৌস তিশির অনুমতি ছাড়াই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিশির মা জিনাত তানিয়া নাহার কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ব্যাপারে একটি মামলা করেছেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বামনগাড়ী এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনা জেলায় পুলিশের এসআই পদে কর্মরত থাকাবস্থায় বরখাস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মশিউর রহমান মিলন ও জিনাত তানিয়া নাহার দম্পতির মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী তিশির সঙ্গে পুলিশের এসআই হাফিজুরের বিয়ে হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে বেশ ধুমধাম করেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বাকপ্রতিবন্ধী জেনেও খুব সুন্দরী হওয়ায় তিশি বিয়ে করেন হাফিজুর।
ভবিষ্যৎ সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময় মিলন-নাহার দম্পতি তিশিকে স্বর্ণের দুল, চেইন, কণ্ঠহার, রুলিবালাসহ ৭ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেন। এছাড়া জামাই হাফিজুরকে স্বর্ণের আংটি ১টি, স্বর্ণের চেইন ১টি এবং ১টি হাত ঘড়ি ও লক্ষাধিক টাকার সাংসারিক দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রদান করেন। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই চাকরীর কথা বলে হাফিজুর শ্বশুরের কাছে ১২ লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় স্ত্রী তিশির ওপর অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। পরে বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে তিশির সুখের কথা ভেবে জামাই এসআই হাফিজুরকে নগদ ১২ লাখ টাকা প্রদান করেন মিলন। পরে হাফিজুর ১টি মোটর সাইকেল ও ১টি পাকা বাড়ী নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এর জন্য হাফিজুর পুনরায় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেন। মশিউর রহমান মিলন জামাই হাফিজুরকে ১টি জাপানী ইয়ামাহা আর.এক্স মোটর সাইকেল এবং পাকাবাড়ী করার জন্য নগদে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এত কিছু পাওয়ার পরও তারপরও লোভ কমেনি হাফিজুরের। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে হাফিজুর।
বাবার বাড়ি থেকে এ টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে ওদিনই হাফিজুর স্ত্রী তিশিকে এক কাপড়ে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেন। তিশি বাবার বাড়ীতে ফিরে এসে তাঁর মাকে স্বামী হাফিজুরের নির্যাতন ও অত্যাচারের সমস্ত ঘটনা জানান।
এদিকে, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বিষয়টি মিলনের বাড়িতে পারিবারিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও সবার সামনে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন হাফিজুর। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাফিজুর স্ত্রীকে না নিয়েই চলে যায়।
জিনাত তানিয়া নাহার বলেন, যৌতুকলোভি হাফিজুর তার মেয়ে তিশিকে না জানিয়ে আরেকটি বিয়ে করেছে। তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করেছে পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। বিয়ের আগে যৌতুক দাবি করবে না বলেছিল হাফিজুর। অথচ বিয়ের পর আমার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে যৌতুক আদায় করেছে। তিনি আমার মেয়ের ভরনপোষণ চালায় না, খোঁজ খবরও নেয় না। আমরা এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে হাফিজুর। বিষয়টি কোনোভাবে সমাধান না হওয়ায় আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলাটি কুষ্টিয়া আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।