হাসান টুটুল :
পৃথিবীর প্রথম ইউটিউব গ্রাম, সেটা কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া। এই গ্রামটি এরইমধ্যে বিশ্বে আলোচিত সংবাদ হয়ে উঠেছে। “এরাউন্ড মি বিডি” বাংলাদেশের একটি ইউটিউব চ্যানেল। বলা হচ্ছে এটি পৃথিবীর একমাত্র ইউটিউব চ্যানেল যেটি একটি গ্রামের সবার অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর প্রথম “ইউটিউব গ্রাম” বলে মনে করা হয়।
এ গ্রামের লিটন আলী খানসহ আরো ২৫-৩০ জন মিলে একটা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন স্থানীয় দেলোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে। চ্যানেলটির নাম ‘এরাউন্ডমি বিডি’।
এখানে নেই কোনো উপস্থাপনা, নেই কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। গ্রামের মানুষের সহজাত কথা বার্তাগুলোই স্বাভাবিক সাউন্ডসহ হুবহু তুলে ধরা হয়। কোনদিন কী রান্না হবে, কীভাবে হবে, কোন জিনিস কতোটুকু লাগবে, এসব সবাই মিলে ঠিক করে। ইউটিউব চ্যানেলটি লাভজনক। তাই লাভের অর্থ দিয়ে গ্রামের দু:স্থ পরিবারকে টিনে ঘর তুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে বই খাতা কিনে দেয়া এবং বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে গ্রামটিতে। এসব আয়োজনের কাজ ইউটিউব চ্যানেলটিতে দেখতে পারে বিশ্ববাসী।
গ্রামে রান্নার দলের ৩০জন নারী-পুরুষকে মাসিক বেতন এবং প্রয়োজনীয় খরচ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বেতনভুক্তদের পাশাপাশি গ্রামের অন্য অনেকে স্বতস্ফুর্তভাবে সহযোগীতা করে।
এই রান্না খেতে গ্রামবাসীকে নিমন্ত্রণ জানাতে হয় না। রান্না শেষ হওয়ার আগেই গ্রামের সব বয়সের আগ্রহী মানুষ যার যার খাবারের পাত্র নিয়ে হাজির হয়ে যায় মাঠে। রান্নাশেষে উৎসবের আমেজে একসাথে খাবার উপভোগ করে গ্রামবাসী। রান্নাসহ গ্রামের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরা হয়। মূলত গ্রামের মানুষের খুশির জন্যই এটি করা।
প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ধারণা করা ইউটিউবের এ চ্যানেলের প্রতিটি ভিডিও’র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করে উৎসুক দর্শক। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারা কাজ শুরু করেন এবং এখন প্রায় ২৪ লাখের উপরে মানুষ ‘এরাউন্ড মি বিডি’র সাবস্ক্রাইবার। শুধু তাইনা, গ্রামীণ জিনিসপত্র দিয়ে খোকসার শিমুলিয়া গ্রামে তৈরি করা হয়েছে ‘থিমপার্ক’। সহজ, সরল গ্রামীণ জীবনে আনন্দ দিতে গেলে নিজেদের চেষ্টায় যতটা করা সম্ভব, সবই যেন করা হচ্ছে এই ইউটিউব গ্রামে।