উজ্জ্বল হোসেন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এখন অগ্নিগর্ভ। চারিদিকে আগুন। পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক সঞ্জয় খুনের বিচারের দাবীতে বিক্ষুদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা শহরে এমন অবস্থার সৃষ্টি করে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি মন্দিরের কমিটিকে কেন্দ্র করে ভেড়ামারা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক সঞ্জয় কুমার প্রমানিকের সাথে বিরোধ চলে আসছিল জাসদ যুবজোটের জেলা ক্রীড়া বিষায়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান শোভনের সাথে। গত ২ অগাষ্ট বুধবার রাতে জাসদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় সঞ্জয়ের উপর হামলা করা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপানোর পাশাপাশি পায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। এসময় আরো ২ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলাল ও শ্যামল আহত হন। এ ঘটনায় রাতেই সাড়াশি অভিযান চালিয়ে শোভন কে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর সকাল ১১ টার দিকে ভেড়ামারা শহরের ডাকবাংলোয় জড়ো হতে শুরু করে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর বিক্ষোভ করে শহরের দোকান পাঠ বন্ধ করে দেয় নেতাকর্মীরা। ঘটনার পর শুক্রবার (৪ আগস্ট ) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সঞ্জয়কে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার। ওই দিনই তার স্ত্রী বিথী রানী বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন। ৯ অগাষ্ট সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সঞ্জয়। এ সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভেড়ামারা শহরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তার বিক্ষোভ প্রর্দশন করে ভেড়ামারার অলিগলি সহ সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালায় তারা। ভয়ার্ত এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসময় সড়কে যাকে পাওয়া গেছে তাকেই মারপিট করেছে তারা। দূরপাল্লার গাড়ি সহ ছোট বড় সকর যানবহনই আটকে দেওয়া হয়। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা সকালেই শোভনের কাচারাপাড়াস্থ বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাংচুর করে, পরে শোভনের সেকেন্ড ইন কমান্ড ইয়ামিনের (এই মামলায় আটককৃত) দোকান ভাংচুর করা হয়, বাড়ি ভাংচুর করে, লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে। শোভনের নিকটাত্বীয় রবি মেকারের শহরস্থ বাড়িতেও অগ্নি সংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম ডাবলুর অফিস, জানবার’র দোকান ভাংচুর করা হয়। মুহুর্তেই পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠে। চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে অগ্নিগর্ভ ভেড়ামারা কে নিয়ন্ত্রনের চেষ্ট করে। শহর জুড়ে আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কিন্তু কোথাও চোখে পড়েনি জাসদের নেতাকর্মীদের।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন হওয়ায় পরিস্থিতি হঠাত করেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে। আসামীদের আটক করতে সাড়াশি অভিযান অব্যবহত আছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: শাহ্ জামাল ফোন:০১৭১৭ ০৭৯ ০২৫ ইমেইল: info@dailyshadhinota.com দৈনিক স্বাধীনতা নিউজ পোর্টাল টি ভেড়ামারা বিনামূল্যে চিকিৎসালয়ের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024