দেবাশীষ দত্ত :
কুষ্টিয়ায় ২টি লোমহর্ষক হত্যাকান্ডে শিহরিত কুষ্টিয়াবাসী। একটি দৌলতপুরে। আদরের সন্তান কোদাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে জন্মদাতা পিতাকে। অন্যটি ভেড়ামারায়। কাঠ কাটার কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিশোর তামিমকে।
ছেলের কোদালের আঘাতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু : পিবিআই
পারিবারিক অশান্তির জেরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৃদ্ধ খেজের আলীকে তাঁর ছেলে আনোয়ার হোসেন হত্যা করেছেন। কোদাল দিয়ে তাঁর বাবার মাথায় আঘাতের পর বুকের হাড় ভেঙে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার দুপর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে এসব তথ্য জানান, কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদ আবু সরোয়ার। পিবিআই জানায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে খেজের আলীর (৬৫) ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন ৮ অক্টোবর নিহতের ভাই নাজির আলী দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।
থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের কোন কুল কিনারা বের করতে না পারায় পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে তদন্তের জন্য মামলাটি পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পিবিআই। তদন্তে বেড়িয়ে আসে নিহত ব্যক্তির একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারুল নৃশংসভাবে কোদালের আঘাতে বাবাকে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।
এসপি শহীদ আবু সরোয়ার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার স্বীকার করে যে, তিনি তাঁর বাবাকে রাতের আঁধারে কিছু গোপন কথা বলার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে পেছন থেকে সজোরে কোদাল দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে মাথার মগজ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। এরপর কোদালের আঘাতে বুকের হাড় ভেঙ্গে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার জানায়, তিনি ৬ বছর সৌদি আরব ছিলেন। তারপর ১ বছরের মতো মালয়েশিয়া থাকার পরে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর পরিবার থেকে আবারও বিদেশে যাওয়ার চাপ ছিল। তাঁর বাবা বিভিন্ন জায়গায় জমি বন্ধক ও বিক্রি করে প্লেন ভাড়ার জন্য ৬২ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা থেকে তিনি ৫ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন। এ কারণে আনোয়ারের একমাত্র ছেলে শিশির (২০) তাঁর বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
এই নিয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এতে বাবা খেজের আলীসহ পরিবারের কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটায়। আনোয়ারের দেওয়া তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের এই এসপি বলেন, আসামী হত্যাকান্ডের বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেবেন বলে জানিয়েছেন।
কিশোর তামিম কে কাঠ কাটার কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘ ৫ দিন রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে তামীম (১৭) রবিবার দুপুরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। সে ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ক্ষেমিড়দিয়ার মুন্সিপাড়া এলাকার রং মিস্ত্রি শাহীন আলীর ছেলে।
সরজমিন নিহত তামিমের বাসায় গেলে দেখা যায়, চারিদিকেই কান্নার রোল। শোকে আছন্ন পুরো পরিবার। ছেলে হারানোর শোকে বুক চাপরিয়ে আহাজারী করছিলেন রং মিস্তি শাহিন আলী। চিৎকার করে কান্না জড়িত কন্ঠে ছেলে হত্যার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল যোগে ছেলে কে সাথে নিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় আসতেই আমজাদের ছেলে রকি, মমিনের ছেলে হৃদয়, শোভন, তুহিনের ভাই শাহীন, আরো ১টা ছেলে মোট ৫ জন আমার ছেলেকে ধুপাধুপ মারতে থাকে। শাহীন নামের ছেলেটা কাঠ কাটার কুড়াল দিয়ে পেছন থেকে কুপায়। তখন মুরগীর বাচ্চার মত আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় ওই ৫জন বেধড়ক পিটায় আর কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভেড়ামারা হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তামিম মারা যায়। স্থানীয়দের দাবী,
ভেড়ামারার চারদিকে তাকালেই কোথাও না কোথাও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ফিটিংস পার্টি, চাঁদাবাজরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব কিশোর গ্যাংদের হামলায় কেউ চোখ হারাচ্ছে, কেউ জীবন দিচ্ছে, কেউ আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যদি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন, তাহলে হয়ত থানায় অভিযোগ দায়ের করার কারণে অকালে তামিম কে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হতো না। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: শাহ্ জামাল ফোন:০১৭১৭ ০৭৯ ০২৫ ইমেইল: info@dailyshadhinota.com দৈনিক স্বাধীনতা নিউজ পোর্টাল টি ভেড়ামারা বিনামূল্যে চিকিৎসালয়ের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024